সাম্প্রদায়িক বিভ্রান্তি ও ভয়ের রাজনীতি কখনোই ফলদায়ক হতে পারে না—এ মন্তব্য করে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা বলেছেন, জনজাতি সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নই হচ্ছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।রবিবার সিমনা বিধানসভা এলাকার বড়কাঠাল বাজারে আয়োজিত সিমনা মণ্ডলের একটি সাংগঠনিক সভায় যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কিছু মহল পরিকল্পিতভাবে প্রচার করছে যে এডিসি এলাকায় বিজেপিকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এমন হুমকির জবাব দিতে গিয়ে তিনি জানান—যত বেশি বাধা দেওয়া হবে, বিজেপি ততই শক্তিশালী হবে।মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “বড়কাঠাল বাজার কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। যে কোনো রাজনৈতিক দল এখানে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। গায়ের জোরে ভয় দেখানো বা বাধা দেওয়ার রাজনীতি আর চলবে না।”তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন দেশের ঐক্য রক্ষায় ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির আত্মবলিদানের কথা এবং পণ্ডিত দীন দয়ালের হত্যার ঘটনা। তার মতে, ভারতীয় জনতা পার্টি আজ দেশের অন্যতম শক্তিশালী ও সৃষ্টিশীল রাজনৈতিক শক্তি, যার লক্ষ্য বিভাজন নয়, উন্নয়ন।মুখ্যমন্ত্রী জানান, যারা ভুল ধারণা বা প্ররোচনায় বিভ্রান্ত হচ্ছেন, তাদের জন্যও বিজেপির দরজা খোলা রয়েছে। তিনি বলেন, “বিভেদের ওপর দাঁড়িয়ে রাজনীতি টিকে না। উন্নয়নের পথে সবাইকে একসঙ্গে এগোতে হবে।”উত্তর-পূর্বে যে শান্তির পরিবেশ গড়ে উঠেছে, তার কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বেরই ফল—এ কথাও তুলে ধরেন তিনি। উগ্রপন্থা থেকে বহু মানুষকে ফিরিয়ে এনে ১১–১২টি শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়টিও তার বক্তব্যে উঠে আসে।ত্রিপুরার জনজাতি সমাজের প্রতি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের শ্রদ্ধা ও সহানুভূতির উদাহরণ হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন—পরপর ৭ জন জনজাতি ব্যক্তিত্বকে পদ্মশ্রী সম্মান প্রদান, জিষ্ণু দেববর্মাকে বড় রাজ্যের রাজ্যপাল নিয়োগ, আগরতলা বিমানবন্দরের নামকরণ, সংগ্রঙমা পুজোর ছুটি ঘোষণা এবং গড়িয়া পুজোর ছুটি বৃদ্ধির মতো সিদ্ধান্ত।মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বিজেপি সরকারের লক্ষ্য পরিষ্কার—“সবকা সঙ্গে, সবকা বিকাশ”—আর তা বাস্তবায়নের মধ্যেই ত্রিপুরার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল।