আর্তমানুষের সেবায় অসামরিক প্রতিরক্ষা ও গৃহরক্ষী বাহিনীর স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকা অপরিমেয়—এ মন্তব্য করে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা বলেন, এই স্বেচ্ছাসেবকদের তৎপরতায় যেমন বহু মানুষের প্রাণ রক্ষা পায়, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ সম্পত্তিও সুরক্ষিত থাকে। সমাজের সংকটমুহূর্তে এরা যেন সত্যিকার অর্থেই মানুষের রক্ষাকবচ।
মনোরঞ্জন দেববর্মা পুলিশ প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ৬৩তম অল ইন্ডিয়া সিভিল ডিফেন্স ও হোম গার্ডস ডে ২০২৫ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী এই কথা তুলে ধরেন। তিনি সব স্বেচ্ছাসেবী সদস্যকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বিপর্যয় ও দুর্যোগ মুহূর্তে তাদের পাশে পাওয়া মানুষের কাছে অপার ভরসা সৃষ্টি করে—যা মানবসেবার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, জাতীয় পর্যায়ে ১৯৬৮ সালে অসামরিক প্রতিরক্ষা আইনি মর্যাদা পেলেও ত্রিপুরায় এটি কার্যকর হয় ১৯৭১ সালে ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধের সময়। দীর্ঘদিন আগরতলা কেন্দ্রিক থাকলেও ২০২১ সাল থেকে রাজ্যের আটটি জেলাতেই সিভিল ডিফেন্স কার্যক্রম সক্রিয়ভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। এর আগে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণও ধাপে ধাপে পরিবর্তিত হয়েছে—পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার নিয়ন্ত্রণ থেকে ২০১৯ সালে স্বরাষ্ট্র দপ্তর এবং পরে ২০২০ সালে রাজস্ব দপ্তরের তত্ত্বাবধানে চলে আসে।
বর্তমানে ত্রিপুরায় ৫,০০০ প্রশিক্ষিত সিভিল ডিফেন্স স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন। রাজ্য সরকার জনসংখ্যার অন্তত ১ শতাংশকে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে প্রশিক্ষিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। ২০২৬ সালের মধ্যে আরও ৩,০০০ নতুন স্বেচ্ছাসেবককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনাও অনুষ্ঠানে ঘোষণা করা হয়।
এছাড়া, সিভিল ডিফেন্সের পাশাপাশি আপদা মিত্র স্বেচ্ছাসেবীরাও প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আগামীতে আরও ১,৬০০ আপদা মিত্র স্বেচ্ছাসেবককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
গত বছরের প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবেলায় সিভিল ডিফেন্স ও আপদা মিত্র স্বেচ্ছাসেবকদের কার্যকর ভূমিকা বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরাকে একটি বিপর্যয়-সহনশীল রাজ্য হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এ কাজে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী রাজ্যের আসল শক্তি।