ত্রিপুরার চলমান রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করলেন বিজেপি নেতা সুবল ভৌমিক। শনিবার কুশাভাউ ভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি তিপরা মথা নেতা অনিমেষ দেববর্মার সাম্প্রতিক মন্তব্যকে আবেগপ্রসূত ও অপরিণত বলে মন্তব্য করেন। তাঁর কথায়, অনিমেষ দীর্ঘদিন রাজনীতিতে আছেন, তার কাছ থেকে এমন মন্তব্য আশা করি না। যেসব দফতরের দায়িত্ব তাঁর হাতে, সেগুলো সঠিকভাবে পরিচালনার দিকেই তাঁর মনোযোগী হওয়া উচিত।রাজীব ভট্টাচার্যের দ্রুত আরোগ্য কামনাসাংবাদিক সম্মেলনের শুরুতেই সুবল ভৌমিক জানান যে বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। তিনি বলেন, রাজ্যবাসীর আশীর্বাদ আর মা ত্রিপুরেশ্বরীর কৃপায় সভাপতির শরীর আগের থেকে অনেক ভালো। খুব শিগগিরই তিনি কাজে ফিরবেন বলে আশা করছি।মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তকে যুগান্তকারী বলে অভিহিতভৌমিক দাবি করেন, ত্রিপুরা মন্ত্রিসভার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো রাজ্যের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে। বিশেষ করে বেকার যুবকদের চাকরির সুযোগ সৃষ্টিতে সরকারের অগ্রগতি তিনি তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, দুটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী। উচ্চশিক্ষার পরিসর বাড়াতে এবং যুবসমাজকে স্বনির্ভর করার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা চলছে— অভিযোগ ভৌমিকেরসুবল ভৌমিক বলেন, সাম্প্রতিক কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনায় বিরোধী দলগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে সরকারের ভাবমূর্তি খারাপ করার চেষ্টা করছে। তাঁর অভিযোগ, কিছু অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে। কিন্তু তাই বলে সরকারের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন প্রচার চালানো অনুচিত। বিজেপি সরকার উন্নয়নেই বিশ্বাস করে, বিশৃঙ্খলায় নয়।তিনি আরও দাবি করেন যে বিজেপি একের পর এক রাজ্যে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করছে, বিহারের সাম্প্রতিক জয়ও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সবকা সাথ, সবকা বিকাশ নীতি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা তার জন্য প্রধানমন্ত্রী এবং জেপি নাড্ডাকে ধন্যবাদ জানাই।জনজাতি এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে সরকারের বিশেষ উদ্যোগত্রিপুরার জনজাতি অধ্যুষিত অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা নিয়ে সুবল ভৌমিক মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে সেখানে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। আগের সরকারগুলোর সময় যে আইন-শৃঙ্খলা ভঙ্গের চিত্র দেখা যেত, বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতি আর হতে দেয়নি। বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও সরকার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়েছে।অপরাধীদের প্রশ্রয় দেয় না বিজেপি— কঠোর বার্তাসুবল ভৌমিকের বক্তব্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল অপরাধ দমন। তিনি স্পষ্ট বলেন, বিজেপি কোনো অপরাধীকে রেহাই দেয় না। যে-ই জড়িত থাকুক, আইনের কঠোর প্রয়োগ হবে। আমাদের প্রতিশ্রুতি, অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স।তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা কিছু দল এখন ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছে। বাস্তবতা হলো বর্তমান সরকারই সবচেয়ে স্বচ্ছ প্রশাসন দিয়ে আসছে।অনিমেষ দেববর্মার মন্তব্যকে শিশুসুলভ বলে আক্রমণস্বরাষ্ট্র দফতর অন্য কাউকে দেওয়ার প্রসঙ্গে তিপরা মথা নেতা অনিমেষ দেববর্মার বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা করতে গিয়ে ভৌমিক আরও কঠোর হন। তাঁর ভাষায়, অনিমেষ আবেগের বশে মন্তব্য করেছেন। এমন মন্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন। তিনি যেন তাঁর দায়িত্বগুলি সঠিকভাবে পালন করেন, সেটাই কাম্য।তিনি আশারামবাড়ির ঘটনার কথাও উল্লেখ করে বলেন, ওই ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে অনিমেষের বক্তব্য শিশুসুলভ মনে হয়েছে। আমরা বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দিইনি।বিরোধীদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মন্তব্যে বিচলিত নয় বিজেপিসাংবাদিক সম্মেলনের শেষাংশে বিজেপি নেতৃত্ব স্পষ্ট করে জানায়, রাজ্যের উন্নয়ন— বিশেষ করে জনজাতি এলাকার অগ্রগতি— তাদের প্রথম অগ্রাধিকার। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মন্তব্যকে তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই অভিহিত করেন।নেতৃত্বের দাবি, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে দেখে বিরোধীদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তাই তারা নানা ইস্যুতে সরকারকে আক্রমণ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু মানুষ বাস্তবতা দেখছেন এবং সরকারের কাজে সন্তুষ্ট।উপসংহারসার্বিকভাবে এ দিনের সাংবাদিক সম্মেলনে সুবল ভৌমিক যে বার্তা দিতে চেয়েছেন, তা হলো— সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা অটুট, উন্নয়ন ও শান্তিই সরকারের অগ্রাধিকার, এবং বিরোধীদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মন্তব্যে তারা কোনোভাবেই প্রভাবিত নয়। একইসঙ্গে তিনি তিপরা মথা নেতাদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়ে দেন যে আবেগ নয়, দায়িত্বশীল আচরণই সময়ের দাবি।