দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে সাব্রুম সাব-জেলের কারাপ্রহরীঅফিসে অনুপস্থিতি, অসামাজিক কার্যকলাপে বাড়ছে আতঙ্ক — তদন্তের দাবি এলাকাবাসীরসাব্রুম নগর পঞ্চায়েতের নেতাজী পাড়া এলাকায় অবস্থিত সাব্রুম সাব-জেলকে ঘিরে উঠেছে দায়িত্বে গাফিলতির গুরুতর অভিযোগ। একমাত্র কারাপ্রহরী সুকান্ত দাস নিয়মিত অফিসে অনুপস্থিত থাকেন এবং ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই কার্যত অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে সংশোধনাগার চত্বর।অগ্নিনির্বাপক দপ্তরের সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত এই সাব-জেলটির দেখভালের দায়িত্ব প্রায় এক বছর আগে সুকান্ত দাসের হাতে ন্যস্ত হয়। কিন্তু আশপাশের বাসিন্দাদের দাবি, তাঁকে খুব কমই ডিউটিতে দেখা যায়। অনেক সময় দিনের পর দিন জেল চত্বরে কোনও প্রহরীর উপস্থিতি থাকে না।স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রহরীর অনুপস্থিতির সুযোগে সংশোধনাগারের মূল ফটকের সামনে নিয়মিত ভিড় জমাচ্ছে কিছু বখাটে যুবক। নির্জনতার সুযোগ নিয়ে সেখানে অসামাজিক কার্যকলাপ চলতে থাকে বলেও দাবি এলাকাবাসীর। ফলে সন্ধ্যার পর ওই এলাকা দিয়ে যাতায়াত করতে আতঙ্কে থাকেন সাধারণ মানুষ।বিশেষ করে সমস্যা বাড়ছে ছাত্রছাত্রী ও ভাড়াটিয়াদের জন্য। নেতাজী পাড়া এলাকায় বহু ছাত্রছাত্রী ভাড়া বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করেন। বাজার বা টিউশন সেরে সন্ধ্যা কিংবা রাতে বাড়ি ফেরার সময় জেল সংলগ্ন পথ দিয়ে যেতে গিয়ে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।এক বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অবস্থায় বলেন,“জেলের সামনে সবসময় কিছু সন্দেহজনক লোক ঘোরাঘুরি করে। প্রহরী থাকলে এসব হত না। আমরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত।”আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জেল কার্যত নিষ্ক্রিয় থাকায় এলাকাটি অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠছে। স্থানীয়দের মতে, কারাপ্রহরী যদি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করতেন, তাহলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হত না।এছাড়াও, কিছু বাসিন্দার পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত আচরণ সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগও উঠেছে, যদিও এ বিষয়ে প্রশাসনের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করা হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসনিক মহল।এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। নিয়মিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং সাব-জেলটি সক্রিয়ভাবে চালু করার দাবি উঠেছে।সামগ্রিকভাবে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীর অনুপস্থিতি শুধু প্রশাসনিক গাফিলতি নয়, জননিরাপত্তার প্রশ্নও তুলছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সরব স্থানীয় বাসিন্দারা।