মহিলাদের আর্থ–সামাজিক উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে আত্মনির্ভর ত্রিপুরা ও আত্মনির্ভর ভারতের মূল লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। মঙ্গলবার আগরতলার মুক্তধারা প্রেক্ষাগৃহে ৮ নম্বর বড়দোয়ালি মণ্ডলের মহিলা মোর্চা আয়োজিত সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আত্মনির্ভর ভারত মিশন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি বৃহৎ জাতীয় উদ্যোগ, যা ২০২০ সালের মে মাসে শুরু হয়। তিনি বলেন, “২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলা বিশেষ অভিযানের মূল লক্ষ্য— দেশের অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা, পরিকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতকে আরও শক্তিশালী করা।”
কোভিড-পরবর্তী সময়ে আত্মনির্ভরতার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে বলে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী যোগ করেন, “নিজেদের শক্তিশালী না হলে বাইরের সহায়তার ওপর নির্ভর করা যায় না। তাই প্রধানমন্ত্রী ভোক্যাল ফর লোক্যাল-এর ওপর জোর দিচ্ছেন, আমরাও ত্রিপুরায় ‘হর ঘর স্বদেশী’ প্রচার করছি।”
মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী যে ২০৪৭ সালের ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্য স্থির করেছেন, তা সফল করতে হলে প্রত্যেক রাজ্যকে উন্নয়নের পথে এগোতে হবে। স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন—
“ত্রিপুরায় জন আরোগ্য যোজনা থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা— সবই স্বাস্থ্যসেবা উন্নতির জন্য নেওয়া পদক্ষেপ। অনেকেই প্রাইভেট হাসপাতালে ছুটে যান, অথচ জেলা ও স্টেট হাসপাতালে ভালো চিকিৎসা পাওয়া যায়।”
তিনি আরও বলেন, পর্যটনের ক্ষেত্রেও ত্রিপুরাবাসীর স্বনির্ভরতা জরুরি। “রাজ্যের সুন্দর পর্যটন কেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও অনেকে বাইরে ঘুরতে যান— এতে অর্থরাজ্যের বাইরে চলে যায়।”
মহিলাদের সার্বিক উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন,
“মহিলারা সমাজের অর্ধেক শক্তি। পরিবারের চালিকা শক্তি থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন স্তরে এখন তাঁরাই অগ্রণী। ট্রেন, বিমান, মহাকাশ— সব ক্ষেত্রেই মহিলাদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিতরণের সময় প্রায় ৭০ শতাংশ পুরস্কারই মেয়েদের হাতে তুলতে হয়, যা তাদের দক্ষতা ও অগ্রগতির প্রমাণ।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নারীদের ক্ষমতায়ন যত বৃদ্ধি পায়, সমাজও তত উন্নত হয়। তাই তাদের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে।”
সভায় আগরতলা পুর নিগমের মেয়র ও বিধায়ক দীপক মজুমদার, সদর আরবান জেলা সভাপতি অসীম ভট্টাচার্য, মহিলা সভানেত্রী ঝুমা বিশ্বাস, বড়দোয়ালি মণ্ডল সভাপতি শ্যামল কুমার দেবসহ দলের অন্যান্য নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন।