মাদকচক্রের দৌরাত্ম্যে ক্ষুব্ধ মতিনগর এলাকার সাধারণ মানুষ এবার রাস্তায় নেমে এলেন প্রতিবাদে। আজ আমতলী থানায় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি ডেপুটেশন জমা দেওয়া হয়েছে, যেখানে তারা মতিনগর এলাকার চারজন কুখ্যাত মাদক কারবারির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি, সম্প্রতি সাসপেন্ড হওয়া এক পুলিশ কনস্টেবলের পক্ষে ন্যায্য তদন্তেরও দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, গতকাল ঘটে যাওয়া ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ কনস্টেবলকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, যেসব ব্যক্তিরা অভিযোগ করেছেন, তারাই আসলে দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মাদক পাচার ও দালালি চক্রের সঙ্গে জড়িত। এই চক্রকে আড়াল করতেই একজন সৎ ও কর্তব্যনিষ্ঠ পুলিশকর্মীকে অপরাধীর তকমা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন বাসিন্দারা।
ডেপুটেশনে তারা স্পষ্টভাবে প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন, সমগ্র ঘটনাটি যেন পক্ষপাতহীনভাবে তদন্ত করা হয়। তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে পুলিশ কনস্টেবল দোষী, তাহলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক—কিন্তু যদি তিনি নির্দোষ হন, তাহলে অবিলম্বে তাঁর সাসপেনশন প্রত্যাহার করে পুনরায় দায়িত্ব পালনের অনুমতি দেওয়া উচিত।
স্থানীয় বাসিন্দা তপন দে বলেন, “আমরা চাই সত্যিটা সামনে আসুক। যারা সত্যিকারের মাদক ব্যবসায় জড়িত, তাদের রক্ষা করে এক সৎ অফিসারকে বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে—এটা আমরা মেনে নেব না।” একইসঙ্গে এলাকাবাসী জানিয়েছেন, প্রশাসন যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে তারা বৃহত্তর গণআন্দোলনের পথে নামতে বাধ্য হবেন।
জানা গেছে, গতকালকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মতিনগর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একদিকে মাদকচক্রের বিরুদ্ধে জনরোষ, অন্যদিকে পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ—দুটি বিষয়ই এখন স্থানীয় প্রশাসনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে কোনো অশান্তি না ছড়ায়।
আমতলী থানার এক দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক জানান, “এলাকাবাসীর ডেপুটেশন গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি এবং সম্পূর্ণ রিপোর্ট উচ্চতর কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।”
এদিকে, এলাকাবাসীর দাবি অনুযায়ী, মতিনগর অঞ্চলে মাদক পাচার দিন দিন বেড়েই চলেছে। কিশোর ও যুবসমাজ এর ফাঁদে পড়ে ধ্বংসের পথে যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কিছু দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এই অবৈধ ব্যবসা এখন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
ডেপুটেশনে উপস্থাপিত সাতটি মূল দাবির মধ্যে ছিল—মাদকচক্রের মূল হোতাদের দ্রুত গ্রেফতার, নিয়মিত পুলিশ টহল, নির্দোষ পুলিশ সদস্যের পুনর্বহাল, এবং এলাকায় সচেতনতা অভিযানের আয়োজন।