ফের চাঞ্চল্য ছড়াল বিশালগড়ে। একের পর এক গুলিচালনা, অপহরণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সাম্প্রতিক ঘটনায় সরকারি ঠিকাদার চন্দন দেবনাথ ও তাঁর পরিবারকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে তীব্র উদ্বেগের পরিবেশ।অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েকদিন আগে অনুপ কুমার সাহার বাড়িতে গুলিচালনার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই একই এলাকায় চন্দন দেবনাথের বাড়িকে টার্গেট করে দুষ্কৃতীরা। পরপর দু’দিন তাঁর বাড়িতে গুলি চালিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এরপর কৌশলে তাঁকে ডেকে নিয়ে গিয়ে অপহরণ করে দুষ্কৃতীরা।পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত রণবীর দেবনাথ ও তাঁর সহযোগীরা চন্দন দেবনাথকে আটকে রেখে ১২ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। জীবন সংশয়ের মুখে পড়ে কোনওরকমে তিনি প্রথমে এক ঘণ্টার মধ্যে টাকা জোগাড় করার আশ্বাস দিয়ে সেখান থেকে মুক্তি পান। পরে প্রাণভয়ে দেড় লক্ষ টাকা জোগাড় করে দুষ্কৃতীদের হাতে তুলে দেন।কিন্তু তাতেও শেষ হয়নি অত্যাচার। অভিযোগ, পরের দিন অর্থাৎ ১৬ তারিখ বিকেলে ফের তাঁর পুরনো বাড়িতে গিয়ে বকেয়া টাকার জন্য গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। সেই সময় চন্দন দেবনাথ বাড়িতে না থাকলেও তাঁর পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে, পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তার খোঁজে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।এরপর ২০ তারিখ তাঁরা বাড়িতে ফিরলে আবারও হামলার ঘটনা ঘটে। ফের গুলিচালনা করে দুষ্কৃতীরা এবং বাকি টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। বাধ্য হয়ে পরিবারটি ব্যাংক থেকে সোনা বন্ধক রেখে প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকা জোগাড় করে দুষ্কৃতীদের দেয় বলে অভিযোগ।তবুও হুমকি থামেনি। অভিযোগ, ২২ তারিখ সকালে ফের ১০ লক্ষ টাকা চেয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এর পরই চন্দন দেবনাথের পরিবার থানার দ্বারস্থ হয় এবং নিরাপত্তার দাবি জানায়।এই ঘটনার পর প্রশ্নের মুখে পড়েছে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা। পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্ত রণবীর দেবনাথের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এমনকি অভিযোগ দায়েরের কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও কার্যকর কোনও পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, পুলিশের তল্লাশি কার্যত “নাটকীয়” পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করার মতো দৃশ্যমান উদ্যোগের অভাব রয়েছে। ফলে এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।এদিকে, চন্দন দেবনাথের পরিবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছে। তাঁদের দাবি, পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।বর্তমানে বিশালগড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ বিরাজ করছে। একের পর এক দুষ্কৃতী কার্যকলাপের ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও।সব মিলিয়ে, এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর নতুন করে নজর পড়েছে। এখন দেখার, অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কত দ্রুত ও কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নেয় এবং আতঙ্কিত পরিবারটিকে নিরাপত্তা দিতে পারে কি না।