বলিউডের অমর আইকন ধর্মেন্দ্রের প্রয়াণে শোক ছায়া নেমে এসেছে ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে। তাঁর মৃত্যু সংবাদ প্রকাশ্যে আসার পরই দেশব্যাপী অনুরাগীদের মধ্যে নেমে এসেছে নিস্তব্ধতা ও আবেগের ঢেউ।
মুম্বাইয়ের পবন হান্স শ্মশানে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে প্রথমে হাজির হন বলিউড সুপারস্টার অমিতাভ বচ্চন ও আমির খান। কিছুক্ষণ পর সেখানে উপস্থিত হন সালমান খানও, যিনি ‘বিগ বস ১৯’ এবং ‘ব্যাটল অফ গালওয়ান’-এর শুটিংয়ে ব্যস্ত থাকা সত্ত্বেও তাঁর প্রিয় মানুষ ধর্মেন্দ্রকে শেষবার বিদায় জানাতে ছুটে আসেন। সালমান খানের সঙ্গে ধর্মেন্দ্রর সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত আত্মিক—একেবারেই পিতা-পুত্রের মতো।
এদিকে, ধর্মেন্দ্রর বাসভবনের বাইরে গভীর শোকাহত অবস্থায় দেখা যায় তাঁর বড় ছেলে সানি দেওলকে। পরে পরিবারের সদস্য ইশা দেওলও নীরবে বাড়িতে প্রবেশ করেন, গণমাধ্যমের সামনে কোনও মন্তব্য না করেই। স্ত্রী হেমা মালিনীও সন্তানদের সঙ্গে এই কঠিন সময়ে পাশে ছিলেন।
সম্প্রতি শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ধর্মেন্দ্র। চিকিৎসার পর বাড়ি ফিরলেও, বৃহস্পতিবার সকালে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়—কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর ফেরানো গেল না এই মহান অভিনেতাকে।
কিছুদিন আগেই তাঁর মৃত্যু নিয়ে ভুয়া খবর ছড়িয়ে পরিবারের সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। সানি ও ইশা দেওল অনুরোধ করেছিলেন, যেন যাচাই না করা কোনও সংবাদ প্রচার না করা হয়। কিন্তু এবার সত্যিই থেমে গেল এক যুগের পথচলা।
হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে ধর্মেন্দ্র এমন এক নাম, যার উপস্থিতি প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মোহিত করেছে। শোলে, চুপকে চুপকে, ড্রিম গার্ল, ধর্মবীর, মেরা গাঁও মেরা দেশ—অসংখ্য কালজয়ী ছবিতে তাঁর অভিনয় আজও দর্শকদের হৃদয়ে অমলিন।
তাঁর একটি পুরনো ‘আপ কি আদালত’ সাক্ষাৎকারও নতুন করে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে তিনি বলেছিলেন,
“যদি সিনেমা না চলে, তবে আমি আমার ফিয়াটটাকে ট্যাক্সি বানিয়ে চালাবো।”
এই এক লাইন তাঁর সরলতা, সততা এবং বাস্তববোধের প্রতীক হয়ে রয়ে গেছে।
আরেক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, প্রথম উপার্জনের টাকায় কিনেছিলেন মাত্র ১৮,০০০ টাকার একটি ফিয়াট গাড়ি। ভাই অজিত তাঁকে বলেছিলেন ওপেন হেরাল্ড গাড়ি নিলে অভিনেতা হিসেবে মানাবে। কিন্তু ধর্মেন্দ্র উত্তরে বলেছিলেন—
“এই ইন্ডাস্ট্রি বিশ্বাসযোগ্য নয়… সময় খারাপ গেলে এই ফিয়াটটাকেই ট্যাক্সি বানিয়ে চালাবো।”
একসময় যে মানুষটি ট্যাক্সিচালক হওয়ার কথা ভেবেছিলেন, তিনিই হয়ে উঠেছিলেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম কিংবদন্তি। তাঁর জীবন দেখায়—আলো কিংবা ভাগ্য নয়, সৎ পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস ও নম্রতা মানুষকে শিখর স্পর্শ করায়।
ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন,
“এটি ভারতীয় সিনেমার এক যুগের শেষ।”
তিনি স্মরণ করেন ধর্মেন্দ্রর অনন্য অভিনয়শৈলী এবং প্রতিটি চরিত্রে তাঁর আনা মাধুর্য ও গভীরতা। পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন—
“ওম শান্তি।”