পানীয় জলের সমস্যাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আগরতলা-বামুটিয়া সড়ক। ভোর থেকে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধে সামিল হন। প্রায় দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই অবরোধের জেরে ওই সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। অফিসগামী মানুষ থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন।অবরোধকারীদের অভিযোগ, গত ছয় মাস ধরে এলাকায় এক ফোঁটা পানীয় জলেরও সরবরাহ নেই। স্থানীয়রা জানান, দুই বছর ধরে জলসংকট ক্রমশ বাড়ছে, অথচ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বারবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও শুধুমাত্র আশ্বাস দিয়েই থেমে গেছে দপ্তর, এমনটাই দাবি প্রতিবাদকারীদের।এক বাসিন্দা জানান, “আমাদের প্রতিদিন জল কিনে ব্যবহার করতে হচ্ছে। এটা একটা সাধারণ পরিবারের পক্ষে অসম্ভব। সরকার যদি ট্যাক্স নেয়, তাহলে ন্যূনতম পরিষেবা দেবে না কেন?” অনেকের মতে, পাইপলাইন পুরনো ও ভাঙাচোরা, ফলে যে সামান্য জল আসে তা নোংরা ও ব্যবহার অনুপযোগী।অবরোধের জেরে ব্যাপক যানজট তৈরি হয় এলাকায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন স্থানীয় থানার পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তারা। পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়। আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন—অবিলম্বে পানীয় জলের নিয়মিত সরবরাহ শুরু না হলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন।প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, “আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। জল সরবরাহ ব্যবস্থার সমস্যা কোথায় হচ্ছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খুব দ্রুতই সমাধান করা হবে।” তবে স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের প্রতিশ্রুতি তারা আগেও বহুবার শুনেছেন, কিন্তু বাস্তবে কোনও পরিবর্তন আসেনি।এলাকার প্রবীণরা জানান, এক সময় এখানে প্রচুর টিউবওয়েল ছিল, কিন্তু এখন অধিকাংশই অকেজো। নতুন করে মেরামতি বা প্রতিস্থাপনের কোনও উদ্যোগ নেই। ফলে বাসিন্দাদের ভরসা এখন জলবাহী গাড়ির উপর, যা সপ্তাহে এক-দু’দিন আসে।বিক্ষোভ চলাকালীন স্থানীয় মহিলাদের অংশগ্রহণও চোখে পড়ার মতো ছিল। তাঁদের বক্তব্য, “জল ছাড়া জীবন অসম্ভব। রান্না, কাপড় কাচা, বাচ্চাদের স্কুল—সবকিছুতে সমস্যা হচ্ছে। আমরা চাই স্থায়ী সমাধান, সাময়িক নয়।”ঘটনার পর আপাতত প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলেছে এলাকাবাসী, তবে পরিস্থিতি শান্ত হলেও ক্ষোভের আঁচ এখনও রয়ে গেছে। সবাই একবাক্যে বলছেন—যদি আগামী কয়েকদিনের মধ্যে জল সরবরাহ স্বাভাবিক না হয়, তাহলে আবারও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন তারা।আগরতলা শহর ও আশেপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা এই জল সংকট রাজ্যজুড়েই প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রতীক হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন অনেকেই।