ডেলিভারি কর্মী প্রসেনজিৎ সরকার-এর রহস্যজনক মৃত্যু কাণ্ডে অবশেষে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এল। দীর্ঘ তদন্তের পর ঘটনার মূল তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে ধর্মনগর পুলিশ। সোমবার গভীর রাতে আসাম রাজ্যের শ্রীভূমি জেলার রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁদের আটক করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তদের প্রথমে চুড়াইবাড়ি থানায় আনা হলেও, পরিস্থিতির সংবেদনশীলতা ও ক্রমবর্ধমান জনরোষের কথা বিবেচনা করে তাঁদের সেখানে না রেখে সরাসরি জেলা দায়রা আদালতে পেশ করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিন আদালত চত্বরে ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যায়। ধর্মনগরের বিভিন্ন এলাকার যুবসমাজের সদস্যদের পাশাপাশি একাধিক ডেলিভারি সংস্থার কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আদালত ও আশপাশের এলাকায় মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী।
পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণে উপস্থিত ছিলেন উত্তর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।এই মামলার শুনানি গ্রহণ করেন সিজিএম দেবলীনা কিলিকদার। গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তদের নাম সুস্মিতা ভট্টাচার্য, সঙ্গীতা ভট্টাচার্য ও সৌরভ ভট্টাচার্য।
আদালত সূত্রে খবর, জনরোষের বিষয়টি মাথায় রেখে অভিযুক্তদের বিচারাধীন অবস্থায় জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।উল্লেখ্য, ডেলিভারি সংক্রান্ত একটি বিবাদকে কেন্দ্র করে প্রসেনজিৎ সরকারের সঙ্গে অভিযুক্তদের বচসা ও মারধরের অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার কিছু সময় পরেই তাঁর মৃত্যু হলে বিষয়টি ঘিরে ধর্মনগর ও সংলগ্ন এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর থেকেই দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে পথে নামেন সাধারণ মানুষ।এদিকে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নাগরিকদের শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং হিংসাত্মক ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে সকলকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশ আধিকারিকরা। প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থার উপর আস্থা রেখে তদন্তে সহযোগিতা করার অনুরোধও করা হয়েছে।
ডেলিভারি কর্মী প্রসেনজিৎ সরকার মৃত্যু কাণ্ডে তিন মূল অভিযুক্তের গ্রেপ্তার তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখছে প্রশাসন। তবে এই ঘটনা কর্মরত মানুষের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এখন সকলের নজর আদালতের চূড়ান্ত রায়ের দিকে