ধর্মনগরে গতকাল রাতে দুষ্কৃতীদের হাতে জেলা কংগ্রেস ভবনে আগুন লাগানোর অপচেষ্টা ঘিরে যে অস্থিরতার সূচনা হয়েছিল, তা আজ আরও বিস্ফোরক আকার ধারণ করেছে। ঘটনার প্রতিবাদে সকালেই কংগ্রেস (আই) কর্মীরা সেন্ট্রাল রোডে দলীয় ভবনের সামনে পথ অবরোধে বসেন। কিছুক্ষণ পর অবরোধ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তারা ভবনে ফিরে সংসদ দিবস উপলক্ষে আলোচনা শুরু করেন।ঠিক সেই সময় পরিস্থিতি হঠাৎ পাল্টে যায়।অবরোধ তুলে নেওয়ার পর বিজেপির পক্ষ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়, এবং মিছিল শেষ করে কংগ্রেস ভবনের সামনেই বিজেপি কর্মীরাও পথ অবরোধ শুরু করেন।অন্যদিকে, সংবিধান দিবস উপলক্ষে ধর্মনগর এসডিএম অফিসের সামনে কর্মসূচি শেষ করে ফিরছিলেন সিপিআইএম কর্মীরা। অভিযোগ, তাঁদের ফেরার পথে পথ অবরোধে থাকা ২০০–২৫০ জন বিজেপি কর্মী আকস্মিকভাবে তাঁদের ওপর হামলা চালায়। ভাঙচুর করা হয় সিপিআইএমের মাইক, বাদ্যযন্ত্র, টুকটুকসহ বিভিন্ন দলীয় সামগ্রী। মারধরের ঘটনায় গুরুতর জখম হন প্রাক্তন বিধায়ক অমিতাভ দত্ত, ধর্মনগর সম্পাদক অভিজিত দে-সহ আরও দুই কর্মী।ঘটনার সময় পুলিশ উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও—উত্তর জেলার অ্যাডিশনাল এসপি ঘটনাস্থলেই ছিলেন—আক্রমণ ঠেকানো যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। সাংবাদিকরা প্রতিক্রিয়া চাইলে তিনি নাকি সরে যান বলেও জানা গেছে।পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন অভিযোগ ওঠে, বিজেপি কর্মীরা পরে জেলা কংগ্রেস ভবনে হামলা চালিয়ে বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং কয়েকজন কংগ্রেস কর্মীকেও মারধর করে। আহতরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন জেলা হাসপাতালে।ক্রমাগত সংঘর্ষ, অবরোধ এবং হামলার জেরে অস্থির হয়ে আছে ধর্মনগর শহর। এমন উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।