উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগরে বাঙালি অধিকার সুরক্ষার দাবিতে চার ঘণ্টাব্যাপী গণঅবস্থান ও বিক্ষোভের আয়োজন করল সংগঠন ‘আমরা বাঙালি’। মঙ্গলবার শহরের কেন্দ্রস্থলে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে সংগঠনের নেতৃত্ব অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পর থেকেই দেশজুড়ে বাঙালি জনগোষ্ঠী রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সামাজিকভাবে বঞ্চনা ও বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে।নেতৃত্বের দাবি, বিভিন্ন আইন-নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে বাঙালিদের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে। গৌরাঙ্গ রুদ্র পাল জানান, দেশের একাধিক রাজ্যে বাঙালি জনগোষ্ঠীকে উচ্ছেদের প্রবণতা বাড়ছে, আর কিছু সরকারি সিদ্ধান্ত সরাসরি বাঙালিদের স্বার্থবিরোধী।অসমসহ উত্তর-পূর্বের বিভিন্ন রাজ্যে বাঙালিদের ‘‘বাংলাদেশি’’ আখ্যা দিয়ে হয়রানি, জমি থেকে উৎখাত এবং পুশব্যাকের অভিযোগও তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে জাতীয় শিক্ষানীতির মাধ্যমে মাতৃভাষা বাংলাকে গুরুত্বহীন করে তোলার চেষ্টা এবং হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগও করেন বক্তারা।বক্তাদের অভিযোগ, দেশভাগের পর পূর্ব পাকিস্তান থেকে আসা হিন্দু বাঙালিদের ওপর নির্যাতন শুরু হলেও বহু ঘটনা রাজনৈতিক আশ্রয়ে চাপা পড়ে গেছে। তাদের দাবি, সিপিএম আমলে বাঙালিদের ওপর একাধিক হত্যা, অপহরণ ও হামলার ঘটনা ঘটলেও দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বর্তমান বিজেপি সরকারও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি বলে অভিযোগ করেন তারা।এছাড়া তারা অভিযোগ করেন, রাজ্যে মাদক চক্র নিয়ন্ত্রণে বর্তমান সরকার ব্যর্থ। বাঙালি জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ বেড়ে চললেও রাজনৈতিক দলগুলো উপজাতি ভোটের আশঙ্কায় নীরব রয়েছে।‘আমরা বাঙালি’ নেতাদের বক্তব্য, রাজনৈতিক দলের ওপর নির্ভরশীলতা বাঙালি জাতির ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে পারবে না। তাই জাতিগত ঐক্য গড়ে তুলে সংগ্রাম জোরদার করার আহ্বান জানান তারা।কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সচিব গৌরাঙ্গ রুদ্র পাল, যুগ্ম ও প্রচার সচিব দুলাল ঘোষ, উত্তর ত্রিপুরা জেলা কমিটির সচিব জ্যোতিষ দেবনাথ, রাজ্য কমিটির সদস্য বিভাস দাসসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।