নির্বাচনের পারদ ক্রমেই চড়ছে। এবার নির্বাচন কমিশনের তরফে এসআইআর বা *Special Intensive Revision*—ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া—শুরু হওয়ার ইঙ্গিত আরও জোরালো। সোমবার বিকেল ৪টে ১৫ মিনিটে কমিশন সাংবাদিক বৈঠক ডাকায় রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই বৈঠকেই দেশব্যাপী ভোটার তালিকার এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর দিনক্ষণ ঘোষণা করা হবে।জানা গেছে , প্রথম পর্যায়ে পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, অসম, কেরালা ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরি সহ মোট প্রায় ১০টি রাজ্য এই কর্মসূচির আওতায় আসবে। তিন দিন আগেই দিল্লিতে সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সঙ্গে কমিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকে বিহারের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে প্রক্রিয়াটি আরও সহজ ও সময়সাশ্রয়ী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।কমিশনের এক আধিকারিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, “বিহারে SIR প্রক্রিয়াটি ২৪ জুন থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় চার মাস সময় নিয়েছিল। কিন্তু এবার কমিশন সেই সময়সীমা কমানোর দিকে জোর দিচ্ছে।” তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যেই সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে পুরনো এবং বর্তমান ভোটার তালিকা মিলিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে যাচাই প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত সময় না লাগে।বিহারের অভিজ্ঞতা থেকেই শিক্ষা নিয়ে এবার কমিশন আরও সতর্ক। গতবারের প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৬৬ হাজার নাম বাদ পড়েছিল, যা নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক হয়েছিল। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ ছিল, ইচ্ছাকৃতভাবে নাম মুছে দেওয়া হয়েছে। সেই বিতর্ক আদালত পর্যন্ত গড়ায়। সুপ্রিম কোর্ট আধার কার্ডকে গ্রহণযোগ্য পরিচয়পত্র হিসেবে বিবেচনা করার নির্দেশ দিয়ে নির্বাচনী সংস্থার আপত্তি খারিজ করে দেয়। আদালত আরও মন্তব্য করে, “একত্রে বাদ দেওয়ার চেয়ে একত্রে অন্তর্ভুক্তি জরুরি।”এই ঘটনার পর নির্বাচন কমিশন এবারের প্রক্রিয়ায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে চলেছে। কমিশনের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, এবার ভোটার যাচাইয়ে আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ও রেশন কার্ড—সবকিছুর মিল খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি, নাগরিকদের অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়াটিও আরও সহজ করা হচ্ছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন-পূর্ব এই উদ্যোগ আসন্ন লোকসভা ভোটের দিকেই ইঙ্গিত করছে। কারণ, বিগত কয়েক মাসে রাজ্যভিত্তিক ভোটার তালিকা নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে—বিশেষ করে বাংলায় একাধিক কেন্দ্রে ভোটার নাম পুনরাবৃত্তি, বা ঠিকানা বিভ্রান্তির মতো সমস্যা দেখা গিয়েছে। সেই সমস্ত ত্রুটি সংশোধনের লক্ষ্যে এই বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।যদিও এখনো পর্যন্ত কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও তারিখ ঘোষণা করেনি, তবু রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা—এবার হয়তো SIR-এর সূচনা দেশের নির্বাচনী প্রস্তুতির নতুন অধ্যায় খুলে দেবে।