দীর্ঘ অসুস্থতার পর প্রয়াত ত্রিপুরা বিধানসভার অধ্যক্ষ বিশ্ববন্ধু সেনপ্রায় পাঁচ মাসের দীর্ঘ চিকিৎসা চলাকালীন শুক্রবার সকালে কর্নাটকের বেঙ্গালুরুতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন ত্রিপুরা বিধানসভার অধ্যক্ষ ও প্রবীণ বিধায়ক বিশ্ববন্ধু সেন।
মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।চলতি বছরের ৮ আগস্ট আগরতলার বাধারঘাট রেলস্টেশন থেকে নিজের বিধানসভা কেন্দ্র উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগরের উদ্দেশে যাত্রার প্রস্তুতির সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।
রেলস্টেশন চত্বরে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে গেলে তাঁকে তড়িঘড়ি আগরতলার উপকণ্ঠে অবস্থিত হাঁপানিয়ার ত্রিপুরা মেডিক্যাল কলেজ ও ডা. বি. আর. আম্বেদকর টিচিং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা জানান, তিনি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন।
অবস্থার গুরুত্ব বিবেচনায় জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হওয়ায় তাঁকে পরে আগরতলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে শারীরিক অবস্থার তেমন উন্নতি না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বেঙ্গালুরুতে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।বিশ্ববন্ধু সেনের প্রয়াণে ত্রিপুরার রাজনৈতিক অঙ্গনে দলমত নির্বিশেষে শোকের আবহ নেমে এসেছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক মাধ্যমে শোকপ্রকাশ করে বলেন, ত্রিপুরার উন্নয়ন ও সামাজিক জীবনে বিশ্ববন্ধু সেনের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি প্রয়াত নেতার পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা শোকবার্তায় জানান, রাজ্যের মানুষের জন্য তাঁর নিঃস্বার্থ সেবা চিরকাল স্মরণে থাকবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, জনসেবায় নিবেদিত বিশ্ববন্ধু সেনের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন রাজ্যের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা শোকবার্তায় বলেন, “ত্রিপুরা বিধানসভার মাননীয় অধ্যক্ষ বিশ্ববন্ধু সেন মহোদয়ের প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর অকালপ্রয়াণ রাজ্যবাসীর জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।”
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বেঙ্গালুরু থেকে তাঁর মরদেহ আগরতলায় আনা হবে এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে। রাজ্য সরকার তাঁর প্রয়াণে ২৬ থেকে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে।
এই সময়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। পাশাপাশি শুক্রবার রাজ্যের সমস্ত সরকারি দপ্তর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও বর্তমান সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব প্রয়াত নেতার আত্মার শান্তি কামনা করেন।
বিরোধী দল সিপিআইএম-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও গভীর শোক প্রকাশ করেছে। বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী জানান, মতাদর্শগত ভিন্নতা সত্ত্বেও বিশ্ববন্ধু সেনের সঙ্গে তাঁর সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল এবং বিধানসভায় শাসক-বিরোধী পক্ষের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
চারবারের বিধায়ক বিশ্ববন্ধু সেন দীর্ঘদিন কংগ্রেস রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার পর ২০১৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দেন। রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকার গঠনের পর তিনি বিধানসভার উপাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০২৩ সালের মার্চ মাসে বিধানসভার অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
১৯৫৩ সালের ২৩ মে উত্তর ত্রিপুরা জেলার ধর্মনগরে জন্মগ্রহণ করা বিশ্ববন্ধু সেন ১৯৭৫ সালে আগরতলার মহারাজা বীর বিক্রম কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।বর্ষীয়ান এই নেতার প্রয়াণে ত্রিপুরার রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে এক গভীর শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের।