রাজ্য জুড়ে ক্রমাগত বেড়ে চলেছে পথ দুর্ঘটনার সংখ্যা। প্রায় প্রতিদিনই কোনও না কোনও দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার নতুন ট্রাফিক আইন, কড়া নজরদারি ও নিয়মিত টহলদারির নির্দেশ দিলেও দক্ষিণ ত্রিপুরার সাব্রুম ও মনুবাজার এলাকায় বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন বলেই অভিযোগ উঠছে।
স্থানীয় সূত্র ও বুদ্ধিজীবী মহলের দাবি, সাব্রুম ও মনুবাজার থানার আওতাধীন জাতীয় সড়ক ও দুর্গম পাহাড়ি রাস্তায় দীর্ঘদিন ধরেই মালবাহী ডি.আই গাড়িতে গাদাগাদি করে বহন করা হচ্ছে শতাধিক শ্রমিককে। অভিযোগ রয়েছে, এই বিপজ্জনক শ্রমিক পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বহিঃরাজ্যভিত্তিক বেসরকারি ঠিকাদার সংস্থা এডভেন্ড ওয়েলফিল্ড সার্ভিস, যারা ওএনজিসি-র অধীনে বিভিন্ন কাজ পরিচালনা করছে।
জানা গেছে, মনুবাজার থানার নিকটবর্তী সাতচাঁদ আর.ডি. ব্লক সংলগ্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন সকাল সাতটা থেকে ন’টার মধ্যে মালবাহী গাড়িতে শ্রমিকদের কাজের স্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। সন্ধ্যায় একইভাবে ফেরত আনা হয় তাঁদের। শ্রমিকদের পরিবহনের সময় কোনও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা আইনানুগ যাত্রীবাহী গাড়ির ব্যবহার করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হল, এই পুরো ঘটনা দিনের পর দিন চললেও সংশ্লিষ্ট থানার পক্ষ থেকে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, যেখানে সামান্য ওভারলোড, হেলমেট না থাকা কিংবা কাগজপত্রে ত্রুটির জন্য সঙ্গে সঙ্গে জরিমানা করা হচ্ছে, সেখানে কীভাবে প্রকাশ্যে মালবাহী গাড়িতে মানব পরিবহন নির্বিঘ্নে চলছে?
স্থানীয়দের আরও আশঙ্কা, এই ধরনের কোনও গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়লে শ্রমিকদের জীবন ও নিরাপত্তার দায়িত্ব কে নেবে? তাঁদের কোনও বীমা বা ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা আছে কি না, সে বিষয়েও স্পষ্ট কোনও তথ্য নেই।
বুদ্ধিজীবী মহলের মতে, এই ধরনের অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমিক পরিবহন শুধু ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন নয়, এটি সরাসরি মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। প্রশাসনের নীরবতা ভবিষ্যতে বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে তুলছে।
এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—কোথায় সাব্রুম মহকুমা প্রশাসন? কোথায় দক্ষিণ জেলার পুলিশ আধিকারিকদের নজরদারি? কোনও দুর্ঘটনায় হতদরিদ্র শ্রমিকদের প্রাণহানি হলে তাঁদের পরিবার-পরিজনের দায়িত্ব কে নেবে?
এই বিষয়ে প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সংস্থার পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে এই অনিয়ম বন্ধে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আগামী দিনে বড়সড় দুর্ঘটনা অনিবার্য।