ভোরের কোমল আলোকে সঙ্গী করে আজ ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দিরে পৌঁছালেন রাজ্যের বিদ্যুৎ ও কৃষিমন্ত্রী রতন লাল নাথ। মোহনপুর ব্লকের অন্তর্গত মোট ২০টি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, উপ-প্রধান এবং পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যরাও তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
রাজ্যবাসীর সার্বিক শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধির কামনায় একযোগে তাঁদের এই বিশেষ সফর যেন প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যস্ততার বাইরে এক ভিন্ন অভিজ্ঞতার ইঙ্গিত দেয়।মন্ত্রী জানান, জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে একসঙ্গে মায়ের দর্শন করে মন্দিরের পূর্ণাঙ্গ প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখেন তাঁরা।
প্রাচীন এই তীর্থক্ষেত্রের আধ্যাত্মিক আবহে দাঁড়িয়ে তিনি অনুভব করেন যেন কোনও অদৃশ্য আহ্বানে সাড়া দিয়ে এসেছেন—এক ধরনের গভীর টান, যা মানুষকে নিজের ভেতরের অনুভূতিগুলোর মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।দর্শন শেষে দলের একাংশ নবনির্মিত ধ্যানকেন্দ্রে প্রবেশ করেন। মন্দির কর্তৃপক্ষের মতে, আজই প্রথমবার এই ধ্যানকেন্দ্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহৃত হলো।
সেখানে মন্ত্রী নিজে ভগবদ্ গীতার পাঠ করেন। অন্য প্রতিনিধিরা নীরব ধ্যান ও প্রার্থনায় অংশ নেন। মন্ত্রীর ভাষায়, “ভক্তি শুধুই আচার নয়, মানুষের সেবায় নিজেকে নিবেদিত করার এক অঙ্গীকার। আশীর্বাদ মানেই বৃহত্তর দায়িত্ব গ্রহণ।”
মন্ত্রী আরও বলেন, মন্দিরের শান্ত ও পবিত্র পরিবেশ তাঁকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। জন-জীবনের প্রতিটি স্তরে আলো ছড়ানোর জন্য, অন্ধকার দূর করার জন্য এবং মানুষের মননে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য মায়ের কাছে প্রার্থনা জানানো তাঁর কাছে ছিল এক মূল্যবান অভিজ্ঞতা। তিনি জানান, সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করার শক্তি ও মনোবল তিনি এই আধ্যাত্মিক পরিসর থেকেই লাভ করেন।
তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে প্রতিনিধিত্বমূলক দায়িত্ব পালনের প্রেরণাও—রাজ্যের উন্নয়ন, অগ্রগতি এবং স্থায়ী শান্তির পথে দলগতভাবে এগিয়ে যাওয়ার সংকল্প। এমন সমবেত প্রার্থনা জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় ও মানবিকতাকে আরও দৃঢ় করে তুলবে বলেও তিনি মনে করেন।আজকের এই অনুষ্ঠানে মাতাবাড়ি ব্লকের চেয়ারম্যান এবং মণ্ডল সভাপতি-সহ অন্যান্য স্থানীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
তাঁদের মতে, এই সফর কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং মানুষের মনোজগৎকে আরও ইতিবাচক দিকে পরিচালিত করার এক উদ্যোগ।সকাল জুড়ে মন্দির চত্বরে ছিল এক শান্ত, শ্রদ্ধানত পরিবেশ। মন্ত্রী ও প্রতিনিধিদের এই বিশেষ সফর রাজ্যের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।