ত্রিপুরার রাজ্য-রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ ক্রমশ চড়ছে। শান্তিরবাজারের সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ায় রাজ্যের শাসক দল বিজেপি তড়িঘড়ি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকে। বুধবার আগরতলায় প্রদেশ বিজেপি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এক গুরুত্বপূর্ণ রুদ্ধদ্বার বৈঠক।বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উত্তর-পূর্বাঞ্চল সংযোজক ও সাংসদ (ডাঃ) সম্বিত পাত্র, রাজ্য প্রভারি ড. রাজদীপ রায়, প্রদেশ সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য্যসহ বিজেপির রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একাধিক শীর্ষ পদাধিকারী। মূলত রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন নির্বাচন ও সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এই বৈঠকে।বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রদেশ সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য্য জানান, শান্তিরবাজারের ঘটনার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা শরিক দলের নেতার সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “বিজেপি ও শরিক দলগুলির মধ্যে সম্পর্ক সুদৃঢ় রয়েছে। প্রতিনিয়ত রাজ্যের উন্নয়নমূলক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পারস্পরিক মতবিনিময় চলছে।”তিনি আরও জানান, সিভিল সোসাইটির ডাকা বনধ এবং সাম্প্রতিক অশান্তির ঘটনাকে বিজেপি দলীয়ভাবে নিন্দা জানিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকার সর্বদা তৎপর। যারা রাজ্যের পরিবেশ অস্থির করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।”রাজীব ভট্টাচার্য্য বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্র সরকার ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে জাতি ও জনজাতি সম্প্রদায়ের উন্নয়নে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তিনি উল্লেখ করেন, “আমাদের লক্ষ্য একটাই— *এক ত্রিপুরা, শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা* গড়ে তোলা। উন্নয়নের মূলস্রোতে যাতে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষও যুক্ত হয়, সেই লক্ষ্যেই বিজেপি সরকার কাজ করছে।”দলীয় সূত্রে জানা যায়, আজকের এই বৈঠকে আসন্ন নির্বাচনের কৌশল নির্ধারণ, জনসংযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা, এবং সংগঠনের তৃণমূল স্তরে শক্তিশালী করার রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সাংগঠনিক কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।একই সঙ্গে, বিরোধীদের লাগাতার আক্রমণের মুখে কীভাবে রাজনৈতিক বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছানো যায়, সে দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বৈঠকে। রাজ্য নেতৃত্ব জানিয়েছে, “ত্রিপুরার মানুষ উন্নয়নের রাজনীতি চায়, বিভাজনের নয়।”ত্রিপুরার বর্তমান রাজনৈতিক আবহে এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। আসন্ন নির্বাচনের আগে বিজেপির এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন গতিপ্রকৃতি আনতে পারে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।