ত্রিপুরার উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসলেন তিপ্রা মথা সুপ্রিমো প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মন। বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, আলোচনা ছিল সম্পূর্ণ রাজনীতির ঊর্ধ্বে—মূল লক্ষ্য ছিল রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা।প্রদ্যোত দেববর্মনের ভাষায়, “আজকের বৈঠক অত্যন্ত ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ভাবনা জানিয়েছেন, আমিও আমার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছি। আমরা দুজনেই চাই ত্রিপুরার মানুষ উন্নয়নের মূল স্রোতে যুক্ত হোক এবং জাতি–জনজাতির মধ্যে ঐক্য বজায় থাকুক।”তিনি জোর দিয়ে বলেন, বৈঠকে কোনো নির্বাচনী ইস্যু ওঠেনি। “এটি শুধুমাত্র উন্নয়নকেন্দ্রিক বৈঠক ছিল। আমরা রাজনৈতিক বিরোধ ভুলে রাজ্যের স্বার্থে কাজ করতে চাই,” বলেন প্রদ্যোত। তিনি আরও জানান, তিপ্রাসা চুক্তি প্রক্রিয়া এখনো চলমান, এবং আলোচনার মাধ্যমে এর একটি স্থায়ী সমাধান বেরিয়ে আসবে বলেই তিনি আশাবাদী।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বৈঠক ত্রিপুরার রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। বিশেষ করে দিল্লিতে ‘ওয়ান নর্থ ইস্ট’ নামে নতুন রাজনৈতিক মঞ্চ গঠনের পর প্রদ্যোতের এটি ছিল প্রথম মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ। ফলে এই সাক্ষাৎ কেবল সৌজন্যমূলক নয়, বরং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিতবাহী বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।বৈঠকে রাজ্যের উন্নয়ন প্রকল্প, প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা, পাহাড়–সমতলের সম্পর্ক এবং বিভিন্ন অবকাঠামোগত সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী ও তিপ্রা মথা নেতৃত্ব উভয়েই মত দিয়েছেন যে রাজ্যের উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতাই এখন সময়ের দাবি।প্রদ্যোত দেববর্মন বলেন, “আমরা সামনের দিকে এগোতে চাই, অতীতের মতবিরোধ ভুলে একসাথে কাজ করতে চাই। ত্রিপুরার উন্নয়নই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য।” তাঁর এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, তিনি রাজনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে চাইছেন।রাজনীতিবিদদের একাংশের মতে, প্রদ্যোতের এই ইতিবাচক মনোভাব রাজ্যের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতে পারে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দূরত্ব কমিয়ে যদি সরকার ও তিপ্রা মথা একসাথে কাজ করে, তবে উন্নয়ন ও ঐক্যের নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে ত্রিপুরায়।শেষ পর্যন্ত এই বৈঠক এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে—ত্রিপুরার ভবিষ্যৎ রাজনীতি হতে পারে সহযোগিতা ও উন্নয়নকেন্দ্রিক। মুখ্যমন্ত্রী ও প্রদ্যোত দেববর্মনের যৌথ প্রচেষ্টা যদি বাস্তবে রূপ পায়, তবে রাজ্যের বহুদিনের অমীমাংসিত সমস্যা সমাধানের পথ আরও মসৃণ হতে পারে।