ত্রিপুরা বায়োটেকনোলজি কাউন্সিল রাজ্যের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষাকে আরও সম্প্রসারিত করতে ধারাবাহিকভাবে ডিএনএ ক্লাব প্রকল্প পরিচালনা করছে। প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যেই ২২২টি স্কুল আর্থিক অনুদান ও কারিগরি সহায়তা পেয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে নতুন করে আরও ৫০টি স্কুলকে ল্যাবরেটরি সরঞ্জাম ক্রয় ও জীববিজ্ঞানভিত্তিক হাতে-কলমে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অনুদান বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্পটিকে আরও বিস্তৃত করতে বছরে বছরে অনুদান প্রদানের সিদ্ধান্তও বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।
২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে অন্তর্ভুক্ত ৫০টি স্কুল তাদের দ্বিতীয় বর্ষের জন্য পেয়েছে ২৫ হাজার টাকা করে মোট ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকার সহযোগিতা। আজ আগরতলার সুকান্ত একাডেমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও পরিবেশ দপ্তরের মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা বিদ্যালয় প্রতিনিধিদের হাতে এই অনুদান তুলে দেন। একই সঙ্গে দ্বিতীয় বছরের গবেষণা কার্যক্রমের জন্য নির্বাচিত ২০টি নতুন প্রকল্প বিষয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়।
সমাবেশে বক্তব্যে মন্ত্রী জানান, ডিএনএ ক্লাব প্রকল্প শিক্ষার্থীদের মধ্যে জৈব প্রযুক্তি বিষয়ে কৌতূহল বাড়াচ্ছে এবং তাঁদের গবেষণামুখী হতে সহায়তা করছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বৈজ্ঞানিক মনন তৈরিতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দপ্তরের সচিব চৈতন্য মূর্তি, ত্রিপুরা বায়োটেকনোলজি কাউন্সিলের সদস্য-সচিব মহেন্দ্র সিং, যুগ্ম সদস্য-সচিব অমন সেনগুপ্তসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। প্রথম বছরের কাজের মূল্যায়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখায় ২৮ জন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। পাশাপাশি ৫০টি স্কুল থেকে ১০০ জন শিক্ষার্থীকে ‘বেস্ট পারফর্মিং স্টুডেন্ট’ হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রকাশ করা হয় ডিএনএ ক্লাবের অগ্রগতি ও মূল্যায়নভিত্তিক তথ্যসমৃদ্ধ একটি বইয়ের মলাট। প্রায় ৩০০ জন শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। উপস্থিত শিক্ষকরা জানান, প্রকল্পটির ফলে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিজ্ঞানচর্চার আগ্রহ দৃশ্যমানভাবে বেড়েছে, যা প্রকল্পের সাফল্যেরই প্রমাণ।