ত্রিপুরার খোয়াই জেলায় এক বাংলাদেশী যুবতীর সঙ্গে বিবাহের অভিযোগে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার বিকেলে মহাদেবটিলা এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।খোয়াই সুভাষপার্ক পুলিশ ফাঁড়ির ওসি জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে রচনা ত্রিপুরা নামে এক বাংলাদেশী যুবতীকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, রচনা বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি জেলার বাসিন্দা। প্রায় চার থেকে পাঁচদিন আগে সে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে।সূত্রের দাবি, রচনা প্রথমে শিলাছড়ি এলাকায় তার বোনের বাড়িতে অবস্থান করছিল। সেখানে থাকার সময়েই খোয়াইয়ের এক স্থানীয় যুবকের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। অভিযোগ, ওই যুবক পরে রচনাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে এবং দাবি করে যে, তারা মন্দিরে বিবাহ সম্পন্ন করেছে।ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ কেউ বিষয়টিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন, আবার অনেকে অবৈধ প্রবেশ এবং আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার দাবি তুলেছেন।পুলিশ জানিয়েছে, আটক বাংলাদেশী যুবতীর বিরুদ্ধে বিদেশি আইন অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়েছে। পাশাপাশি, যিনি তাকে আশ্রয় দিয়েছেন এবং বিবাহের দাবি তুলেছেন, সেই খোয়াইয়ের যুবকের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওসি আরও জানান, “এটি একটি সংবেদনশীল বিষয়। আমরা আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নিচ্ছি এবং তদন্ত চলছে।”পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা গেছে, যুবকটি দীর্ঘদিন ধরে রচনার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল। তাদের সম্পর্কের বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন অবগত থাকলেও কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে খোয়াই মহকুমা জুড়ে চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে এবং প্রশাসন পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করছে।স্থানীয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, “বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে বিবাহের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। সেটি অনুসরণ না করে এমন পদক্ষেপ নেওয়া আইনত অপরাধ। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।”বর্তমানে রচনাকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তাকে আদালতে পেশ করার প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি, ওই যুবকের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে সূত্রে জানা গেছে।ঘটনাটি শুধু সীমান্ত নিরাপত্তা নয়, দুই দেশের সামাজিক সম্পর্ক এবং আন্তঃসাংস্কৃতিক যোগাযোগ নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলেছে। অনেকেই বলছেন, এমন ঘটনায় মানবিক ও আইনি উভয় দিকই বিবেচনা করা প্রয়োজন।