ত্রিপুরায় আসন্ন ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে সরগরম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রদেশ কংগ্রেস ভবনে আজ অনুষ্ঠিত হয় আদিবাসী কংগ্রেসের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল আসন্ন নির্বাচনে দলের রণকৌশল নির্ধারণ, সংগঠনের শক্তিবৃদ্ধি এবং তৃণমূল পর্যায়ে রাজনৈতিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করে তোলা।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন আদিবাসী কংগ্রেসের চেয়ারম্যান শব্দকুমার জমাতিয়া। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা। সভায় বক্তারা রাজ্যের বর্তমান সামাজিক-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শব্দকুমার জমাতিয়া দাবি করেন, “ত্রিপুরায় একটা শ্রেণি পরিকল্পিতভাবে জাতি ও উপজাতি সমাজের মধ্যে বিভাজনের রাজনীতি চালাচ্ছে। এই বিভেদমূলক রাজনীতি রাজ্যের শান্তি ও ঐক্যের পক্ষে ক্ষতিকর।” তিনি আরও বলেন, “কংগ্রেস সবসময় ঐক্য, সম্প্রীতি ও গণতন্ত্রের রাজনীতি করে এসেছে। আমরা চাই, জাতি-উপজাতি নির্বিশেষে সবাই একসঙ্গে এগিয়ে যাক। রাজ্যের ভবিষ্যৎ তখনই উজ্জ্বল হবে যখন ঐক্য অটুট থাকবে।”
এদিন তিনি জানান, আদিবাসী কংগ্রেস আগামী ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে জনগণের পাশে থেকে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে লড়াই করবে। তাঁর কথায়, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র নির্বাচনী জয় নয়; বরং জনগণের আস্থা অর্জন করা এবং আদিবাসী সমাজের বাস্তব সমস্যা তুলে ধরা।”
সভায় উপস্থিত অন্যান্য নেতারাও একসুরে জানান, আগামী দিনে দল জনসংযোগ অভিযান জোরদার করবে। বিভিন্ন অঞ্চলে সভা, আলোচনা ও সাংগঠনিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে, যাতে গ্রামীণ ও আদিবাসী জনগণের সমস্যা সরাসরি বোঝা যায় এবং তার সমাধানের পথ খোঁজা যায়।
এক নেতা বলেন, “গ্রামাঞ্চলের মানুষ এখন বাস্তব উন্নয়ন চায়। কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পানীয় জলের সমস্যা নিয়ে আমরা সরাসরি জনগণের পাশে দাঁড়াব।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বৈঠক শুধু সংগঠনের অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি নয়, বরং রাজ্যের বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে—কংগ্রেস এখন ঐক্য ও সম্প্রীতির রাজনীতিকে সামনে রেখে আবার মাঠে নামছে।
ত্রিপুরার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যেখানে জাতিগত বিভাজনকে কেন্দ্র করে বারবার উত্তেজনা দেখা যায়, সেখানে আদিবাসী কংগ্রেসের এই আহ্বান অনেকের কাছেই ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। শব্দকুমার জমাতিয়ার ভাষায়, “আমরা বিশ্বাস করি, রাজনীতি মানে জনগণের সেবা। বিভেদ নয়, ঐক্যই হোক ত্রিপুরার ভবিষ্যতের ভিত্তি।”