জিবি হাসপাতালের সামনে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটে গেল এক নাটকীয় ঘটনা। অগ্নিনির্বাপক দপ্তরের একটি টিম অসুস্থ এক রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নিয়ে আসছিল। রোগীর সঙ্গে থাকা এক যুবক আচমকাই এমন একটি কাজ করে বসে, যা হাসপাতাল চত্বরকে মুহূর্তে উত্তেজিত করে তোলে।
দমকল বাহিনীর গাড়ি হাসপাতালে ঢোকার পর রোগীকে স্ট্রেচারে তোলা হচ্ছিল। ঠিক সেই সময় রোগীর গলায় থাকা সোনার চেইনটি খোলার চেষ্টা করতে দেখা যায় ওই যুবককে। চোখে পড়ে দমকল বিভাগের এক কর্মীর। প্রথমে তিনি আচরণটি স্বাভাবিক নাকি উদ্দেশ্যমূলক—তা বোঝার চেষ্টা করেন। কিন্তু রোগীর গলা স্পর্শ করার ভঙ্গি দেখে তার সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।
ক্ষিপ্রগতিতে সেই দমকল কর্মী অন্য সহকর্মীদের ডাকেন। তারা ঘিরে ফেলেন যুবকটিকে। সামান্য জিজ্ঞাসাবাদের পরই যুবকের আচরণ গড়বড় বলে স্পষ্ট হয়ে যায়। পরে তার পকেট থেকে উদ্ধার করা হয় সোনার চেইনটি, যা রোগীর গলার ছিল বলে অভিযোগ।
দমকল কর্মীদের একজন জানান, তারা রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে ব্যস্ত থাকায় এ ধরনের ঘটনার কথা ভাবতেও পারেননি। কিন্তু হঠাৎই যুবকের হাতের নড়াচড়া চোখে পড়ায় তারা সতর্ক হন। “একটু অসতর্ক হলে রোগী আরও বিপদের মুখে পড়তে পারতেন,” বলেন তিনি।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতাল চত্বরে ভিড় জমতে শুরু করে। উপস্থিত মানুষ ঘটনাটি শুনে বিস্মিত হন। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন, অসুস্থ রোগীর সুযোগ নিয়ে এমন চুরির চেষ্টা মানবিকতার সীমা লঙ্ঘন করে বলে মন্তব্য করেন।
তৎক্ষণাৎ দমকল কর্মীরা অভিযুক্ত যুবককে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পুলিশ জানায়, যুবকের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সোনার চেইনটি মালিকের কাছে ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে।
হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে এই ঘটনাকে ঘিরে। অনেকেই মনে করছেন, জরুরি পরিষেবার গাড়ি থেকে রোগী নামানোর সময় রোগীর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদেরও নজরদারিতে রাখা প্রয়োজন। বিশেষত হাসপাতালের ব্যস্ত পরিবেশে এ ধরনের অপরাধ ঘটার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
তবে পুরো ঘটনার পর একটাই ইতিবাচক দিক স্পষ্ট হয়েছে—দমকল কর্মীদের দ্রুত বুদ্ধি ও তৎপরতা। তাদের সতর্ক পদক্ষেপের ফলেই রোগীর মূল্যবান জিনিস রক্ষা পেয়েছে এবং চোরকে হাতেনাতে ধরা সম্ভব হয়েছে। ঘটনার পর সাধারণ মানুষসহ হাসপাতালের কর্মীরাও দমকল বিভাগের এই ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।
এই ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিল, বিপদের সময় শুধু উদ্ধার কাজই নয়, চারপাশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও দমকল কর্মীরা কতটা নজরদারি রাখেন। তাদের এই সতর্কতা ভবিষ্যতে আরও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সাহায্য করবে বলেই আশা করা হচ্ছে।