মাত্র দশ দিনের ব্যবধানে ফের বড়সড় গাঁজা উদ্ধার করে আলোচনায় এল অসম–ত্রিপুরা সীমান্তের চুড়াইবাড়ি চেকপোস্ট। সোমবার সকালেই বাজারিছড়ার চুড়াইবাড়ি পুলিশ ওয়াচ পোস্টে এসে দাঁড়ায় এনএল-০৬-এ-৭৬৫৮ নম্বরের ১২ চাকার একটি খালি লরি। নিয়মিত তল্লাশির অংশ হিসেবে ওসি আনন্দ মেধি কর্মীদের নির্দেশ দেন গাড়িটি পরীক্ষা করতে—আর সেখানে মিলল বিশাল পরিমাণে লুকোনো মাদকদ্রব্য।তল্লাশির সময় দেখা যায়, লরির বডির পাশের অংশে বিশেষভাবে তৈরি ফাঁকা জায়গায় গোপনে রাখা হয়েছে ৬৭টি প্যাকেট। এই সব প্যাকেট খুলে মোট তিন কুইন্টাল ৭৬ কেজি শুকনো গাঁজা উদ্ধার করে পুলিশ। অনুমান, দক্ষতার সঙ্গে লুকোনোর কৌশল ব্যবহার করে পুরো চালানটি সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল পাচারকারীদের।ঘটনাস্থলেই আটক করা হয় লরির চালক রাকেশ চক্রবর্তীকে। তদন্তে জানা যায়, রাকেশের বাড়ি ত্রিপুরার কমলানগর জিরানিয়া এলাকায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করেছে, এই মাদক ত্রিপুরা থেকে মেঘালয়ের শিলংয়ে পাচারের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পুলিশের মতে, উদ্ধার হওয়া এ পরিমাণ শুকনো গাঁজার বাজারমূল্য আনুমানিক দুই কোটি টাকা ছুঁতে পারে।সমাজেলা পুলিশ আধিকারিক অর্ণিবান শর্মা জানান, “গাঁজার এই বড় চালানটি কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং কারা এর পেছনে রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃত চালকের বিরুদ্ধে আইনি মামলা রুজু করা হয়েছে এবং পাচারচক্রের সঙ্গে যুক্ত অন্যদের শনাক্ত করার কাজও চলছে।” তিনি আরও বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক পাচার রুখতে নিয়মিত নজরদারি ও তল্লাশি জারি থাকবে।এ ধরনের ধারাবাহিক সফল অভিযানে স্থানীয় জনগণ স্বস্তি প্রকাশ করেছে। এলাকাবাসীর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের সক্রিয়তা বেড়ে যাওয়ায় মাদকপাচারের পথ অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়েছে। সচেতন মহল পুলিশের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলছেন, চক্রটিকে পুরোপুরি ভেঙে দিতে আরও কড়া নজরদারি ও আন্তঃরাজ্য সমন্বয় প্রয়োজন।সাম্প্রতিক উদ্ধারগুলি ইঙ্গিত দিচ্ছে, ত্রিপুরা ও পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলিকে ঘিরে মাদক পাচারের নেটওয়ার্ক আবার মাথা তুলতে চাইছে। তবে পুলিশ আশাবাদী—সময়মতো অভিযান ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ বাড়ানো গেলে পাচারকারীরা কার্যত কাবু হয়ে পড়বে।