খুমুলুঙ-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় চলমান সংঘর্ষ ও উত্তেজনার প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার সাম্প্রতিক মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি করেছে। এদিন সিপিআইএম ত্রিপুরা রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলী এক বিবৃতি প্রকাশ করে দাবি করেছে—মুখ্যমন্ত্রী খুমুলুঙ সফরে গিয়ে সন্ত্রাস ও অস্থিরতা প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিপিআইএমকে উদ্দেশ্য করে “ভিত্তিহীন, অপ্রাসঙ্গিক ও কাল্পনিক” মন্তব্য করেছেন।বিবৃতিতে সিপিআইএমের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য তাঁর ‘কমিউনিস্ট বিদ্বেষ’ প্রকাশ করে এবং তা মূলত বিজেপি ও শরিক তিপরা মথার অপকর্ম আড়াল করার চেষ্টা। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, কেরালা, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় সিপিআইএমের সংস্কৃতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কটূক্তি আসলে সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতা থেকে নজর ঘোরানোর কৌশল।রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলী সরাসরি অভিযোগ করেছে—আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মুখ্যমন্ত্রী ব্যর্থ। গত কয়েকদিন ধরে বিজেপি ও তিপরা মথার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, ভাঙচুর, লুটপাট ও হামলা ঘটলেও সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। তাঁদের দাবি, সংশ্লিষ্ট দুটি থানাও কার্যত নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এলাকায় ত্রাস এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সিপিআইএম দাবি করেছে, এমনকি শাসকদলের এক মন্ত্রী পর্যন্ত প্রকাশ্যে মুখ্যমন্ত্রীকে দায়ী করেছেন।পার্টির বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান না নিয়ে উল্টো সিপিআইএমকে আক্রমণ করে দুষ্কৃতীদের মনোবল বাড়িয়ে তুলছেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আত্মবিশ্বাস ক্ষুণ্ণ করছেন।রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলী দাবি করেছে—মুখ্যমন্ত্রীর “বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যমূলক” মন্তব্যের বিরুদ্ধে রাজ্যবাসীর প্রতিবাদী হওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে তারা জোর দিয়েছে যে, সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সংঘর্ষ থামাতে হবে এবং এলাকায় স্বাভাবিক শান্তি ফিরিয়ে আনতে হবে।