ত্রিপুরার খুমলুঙে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সংঘর্ষকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত অশুভ সংকেত বলে আখ্যা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ড. মানিক সাহা। ঘটনাটি নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, এ ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা অতীতের মতো আজও কিছু অঞ্চলে বেঁচে আছে, যা কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তাঁর বক্তব্যে পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা এবং ত্রিপুরায় অতীতে বাম শাসনের সময় যে ধরনের সংঘর্ষের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, খুমলুঙের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সেই ধারারই প্রতিফলন বলেই তিনি মনে করেন।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা প্রতিটি নাগরিকের অধিকার।
কিন্তু সেই অধিকারকে ঢাল করে কেউ যদি সহিংসতার আশ্রয় নেয়, তবে তা শুধু রাজনৈতিক পরিবেশকে নোংরা করে না, বরং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকেও হুমকির মুখে ফেলে। দলীয় কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ, বাড়িঘরে হামলা বা ভাঙচুরের মতো ঘটনা সভ্য সমাজে জায়গা পেতে পারে না—এ কথাই তিনি পরিষ্কার ভাষায় তুলে ধরেন।
তিনি আরও জানান, খুমলুঙের পরিস্থিতি তিনি ব্যক্তিগতভাবে পরিদর্শন করবেন। অপরাধী যে-ই হোক না কেন, আইনের আওতায় এনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, কেউ যদি মনে করে জোরজবরদস্তি করে রাজনৈতিক মাঠে টিকে থাকা যায়, তবে সেটা ভুল ধারণা।সহযোগী দলের সঙ্গে সংঘর্ষের প্রসঙ্গেও মুখ্যমন্ত্রী কঠোর অবস্থান প্রকাশ করেন।
তাঁর বক্তব্য, এখনো যাঁরা ভুল পথে হাঁটছেন, তাঁদের ফিরে আসার সুযোগ রয়েছে। বিপথগামী রাজনীতির পথ ত্রিপুরা গ্রহণ করবে না। তিনি তুলনা টেনে বলেন, যে রাজ্যগুলোকে নিয়ে নানা সময়ে সমালোচনা শোনা যায়, সেই বিহারেও এ ধরনের রাজনীতি দেখা যায় না। জনগণ কোনোভাবেই জঙ্গলরাজ বা আতঙ্কের রাজনীতি মেনে নেবে না বলেও সতর্ক বার্তা দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য—ত্রিপুরায় উন্নয়ন, শান্তি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধই হবে রাজনীতির আসল ভিত্তি। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, অশান্তি ছড়িয়ে কেউ রাজনৈতিক সুবিধা নিতে চাইলে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেবে।