দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক উদাসীনতার চিত্র আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে কৈলাসহর টিআরটিসি অফিসে। ১৯৮৮ সালে নির্মাণের পর থেকে একবারও সংস্কার না হওয়া ভবনটি এখন কার্যত জরাজীর্ণ—দেয়াল ক্ষয়ে পড়ছে, চারপাশ জুড়ে ঝোপঝাড়ে ঢাকা পুরো এলাকা। স্থানীয়দের মতে, সরকারি সম্পত্তির প্রতি এমন অবহেলা নজিরবিহীন।
এদিকে গত বারো দিন ধরে কৈলাসহর–ধর্মনগর রুটে এবং সাত দিন ধরে কৈলাসহর–কুমারঘাট স্টেশন রুটে টিআরটিসির বাস চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ। নিম্ন আয়ের যাত্রীদের জন্য এটি বড় ধাক্কা। আগে যেখানে সরকারি বাসে ভাড়া ছিল মাত্র ৩০ টাকা, সেখানে এখন বাধ্য হয়ে বেসরকারি গাড়িতে দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে—৬০ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত।
অফিস প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, দুটি বাস দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। আরও একটি বড় বাস তিন–চার মাস ধরে আগাছার ভেতর অচল হয়ে পড়ে আছে। কুমারঘাট রুটের বাসটির ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যাওয়া এবং অতিরিক্ত তেল–মবিল ব্যবহারের অভিযোগে চালকরা রাস্তায় নামতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। বড় বাসটির অবস্থাও একই—অবহেলায় অচল হয়ে পড়ছে সরকারি সম্পদ।
পর্যবেক্ষণে আরও জানা যায়, অফিস ইনচার্জ কৃষ্ণচরণ দেববর্মা দীর্ঘ ছুটি শেষে ফের চিকিৎসার জন্য বাইরে থাকায় তদারকির ঘাটতি প্রকট হয়েছে। অন্যদিকে মেরামতের জন্য কাগজপত্র আগরতলায় জমা দেওয়া হলেও বাসগুলো কবে রাস্তায় ফিরবে, সে সম্পর্কে কোনও নিশ্চিত সময়সীমা জানানো হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলছেন—ইচ্ছাকৃতভাবেই কি সরকারি বাস পরিষেবাকে দুর্বল করে দেওয়া হচ্ছে? তাদের দাবি, দ্রুত বাস চলাচল স্বাভাবিক করা হোক এবং টিআরটিসির প্রশাসনিক শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।