কেরলের নির্বাচনী ময়দানে দাঁড়িয়ে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা সরাসরি আক্রমণ শানালেন বামপন্থী শাসন ও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল ত্রিপুরার রাজনৈতিক পরিবর্তনের উদাহরণ, আর সেই অভিজ্ঞতাকেই কেরলের জনগণের সামনে তুলে ধরলেন তিনি।কেরলের কালপেট্টা বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী প্রশান্ত মালাভায়ালের সমর্থনে আয়োজিত এক নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাহা বলেন, ত্রিপুরা একসময় কমিউনিস্টদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই পরিস্থিতি বদলেছে। তাঁর দাবি, ত্রিপুরার মানুষ যেমন দীর্ঘদিনের বাম শাসন থেকে বেরিয়ে এসে উন্নয়নকে বেছে নিয়েছেন, তেমনই কেরলের মানুষকেও একই পথে হাঁটার আহ্বান জানান তিনি।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ত্রিপুরা যেভাবে কমিউনিস্টদের দুঃশাসন কাটিয়ে উঠেছে, কেরলের জনগণকেও সেই পরিবর্তনের পথে এগোতে হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, বিজেপি কেবল একটি রাজনৈতিক দল নয়, বরং উন্নয়ন ও স্বচ্ছ প্রশাসনের একটি প্রতিশ্রুতি বহন করে। তাঁর মতে, দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র নেতৃত্বে দেশজুড়ে যে উন্নয়নের ধারা শুরু হয়েছে, কেরলেও সেই ধারাকে প্রতিষ্ঠা করার সময় এসেছে।সাহা তাঁর ভাষণে এলডিএফ ও ইউডিএফ—কেরলের দুই প্রধান রাজনৈতিক জোট—কে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “এই দুই জোট দীর্ঘদিন ধরে পালাক্রমে ক্ষমতায় এসে রাজ্যের সম্পদ লুট করেছে। এটি যেন এক ধরনের ‘ম্যাচ ফিক্সিং’, যার ফলে সাধারণ মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।” তাঁর দাবি, এই রাজনৈতিক চক্র ভেঙে নতুন বিকল্প হিসেবে বিজেপিকে গ্রহণ করা উচিত।ত্রিপুরার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিজেপি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে এবং রাজ্যে সরকার গঠন করে। সেই সময়ের আগে ত্রিপুরায় বিজেপির উপস্থিতি প্রায় ছিল না বললেই চলে। কিন্তু সংগঠনের শক্তি বৃদ্ধি, তৃণমূল স্তরে কর্মী গড়ে তোলা এবং জনসংযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মানুষ বংশপরম্পরার রাজনীতি নয়, উন্নয়নকে বেছে নিয়েছে। আমরা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা বাস্তবায়ন করেছি।” তাঁর দাবি অনুযায়ী, ত্রিপুরায় জনজাতি এলাকাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং বহু পরিবারকে আবাসন, শৌচাগার ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গ্রামীণ সংযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নেও জোর দেওয়া হয়েছে।কেরলের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিজেপির লক্ষ্য শুধুমাত্র নির্বাচন জেতা নয়, বরং একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত কেরল গড়ে তোলা। তাঁর মতে, ২০২৬ সালের লক্ষ্যকে সামনে রেখে বিজেপি একটি বৃহত্তর ভিশন নিয়ে এগোচ্ছে, যেখানে উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং সকল সম্প্রদায়ের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।এছাড়া তিনি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিষয় নিয়েও মন্তব্য করেন। তাঁর অভিযোগ, কেরলের বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্ব মন্দির পরিচালনা ও ঐতিহ্য রক্ষার ক্ষেত্রে যথাযথ ভূমিকা পালন করছে না। বিজেপি এই ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও ভক্তদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান তিনি।সবশেষে মানিক সাহা বলেন, “বিভাজনের রাজনীতিকে পিছনে ফেলে উন্নয়ন, জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছ প্রশাসনের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করার এটাই সঠিক সময়।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, কেরলের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিজেপি নিজেদের একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।কেরলের নির্বাচনী আবহে এই বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়েছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।