ত্রিপুরার রাজনীতিতে নতুন সুর তুললেন তিপরা মথার প্রাক্তন সুপ্রিমো ও এমডিসি প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মা। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, সময় এসেছে উত্তর–পূর্ব ভারতের বিভিন্ন জনজাতি ও সম্প্রদায়ের নেতাদের মতপার্থক্য ভুলে এক শক্তিশালী যৌথ প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার। তাঁর বক্তব্য, “পরিচয় অটুট রেখে আমাদের সবাইকে এক কণ্ঠে কথা বলতে হবে। যারা বছরের পর বছর আলাদা আলাদা রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে একই সমস্যার কথা বলছেন, এখন তাঁদের একত্রিত হওয়ার সময়।”প্রদ্যোতের মতে, উত্তর–পূর্ব ভারতের যে সমস্যাগুলো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা হচ্ছে—পরিচয় সংকট, উন্নয়ন বঞ্চনা, সুযোগ–সুবিধার অসমতা—এই সব ইস্যু আলাদা আলাদা দল বা সংগঠনের আওতায় সীমাবদ্ধ থাকলে জাতীয় স্তরে সেগুলোর যথাযথ গুরুত্ব পায় না। তিনি বলেন, “আমরা যদি ছড়িয়ে–ছিটিয়ে কথা বলি, আমাদের দাবি দুর্বল হয়ে পড়ে। কিন্তু একসঙ্গে দাঁড়াতে পারলে তা হবে উত্তর–পূর্বের মানুষের জন্য এক ঐক্যবদ্ধ শক্তির প্রকাশ।”তিনি আরও জানান, এই নতুন প্রস্তাবিত ফ্রন্ট শুধু উত্তর–পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর জনগণের প্রতিনিধিত্বই করবে না, বরং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী উত্তর–পূর্বের বাসিন্দাদেরকেও সমানভাবে যুক্ত করবে। প্রদ্যোতের মতে, উত্তর–পূর্বের মানুষ অনেক সময়ই বৈষম্য ও ভুল ধারণার শিকার হন। তাই তাদের অধিকার রক্ষায় একটি সর্বভারতীয় প্ল্যাটফর্ম তৈরি হওয়া প্রয়োজন।“দিল্লিতে একত্রে গিয়ে দাবি তুলতে হবে,” — স্পষ্ট বার্তা প্রদ্যোতের। তাঁর মতে, কেন্দ্রীয় সরকারের সামনে উত্তর–পূর্বের মানুষ যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের সমস্যা ও দাবিগুলো তুলে ধরে, তাহলে তা আরও কার্যকরভাবে প্রতিফলিত হবে। তিনি আশাবাদী, তরুণ নেতৃত্বের হাত ধরেই এই বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে উঠবে এবং অঞ্চলটির রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক স্বার্থ রক্ষায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।প্রদ্যোত দেববর্মার এই বক্তব্যে স্পষ্ট—উত্তর–পূর্বকে নিয়ে নতুন এক রাজনৈতিক সমীকরণ সামনে আসতে চলেছে, যেখানে ভিন্ন মত, ভিন্ন দল ও ভিন্ন অঞ্চলের মানুষেরা এক অভিন্ন উদ্দেশ্যে একত্র হওয়ার বার্তা পাচ্ছে।