ত্রিপুরার চলমান প্রশাসনিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে “আমরা বাঙালি ত্রিপুরা রাজ্য কমিটি” সাত দফা দাবির ভিত্তিতে পশ্চিম জেলার জেলা শাসকের নিকট ডেপুটেশন প্রদান করেছে। সংগঠনের সদস্যরা সেদিন সকালে একটি মিছিল নিয়ে জেলা সদর অতিক্রম করে জেলা শাসকের কার্যালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। মিছিল শেষে প্রতিনিধি দল জেলা শাসকের হাতে দাবিপত্র জমা দেয়।
ডেপুটেশন দলের নেতৃত্বে ছিলেন সংগঠনের রাজ্য সচিব গৌরাঙ্গ রুদ্র পাল। তিনি সংবাদ মাধ্যমকে জানান, বর্তমান পরিস্থিতি রাজ্যে এক গভীর অরাজকতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বকলম মথার আহ্বানে শান্তির বাজার এলাকায় যে ধরনের সহিংস চিত্র দেখা গেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। রাজধানীর উত্তর গেট এলাকা থেকে শুরু করে রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষ, এমনকি জরুরি পরিষেবার কর্মীরাও বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশের উপস্থিতিতেই এই ঘটনাগুলি ঘটেছে এবং কিছু ক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত আটকে দেওয়া হয়েছে, যা মানবিকতার সীমা লঙ্ঘন করেছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কমলপুরে সংঘটিত ঘটনা সম্পূর্ণভাবে সাম্প্রদায়িক প্ররোচনায় ঘটেছে এবং ১৯৮০ সালের জুন মাসের ভয়াবহ গণহত্যার পরিস্থিতি আবারও তৈরি করার চেষ্টা চলছে। প্রশাসনের উদাসীনতা এবং রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়ছে বলে দাবি করেন গৌরাঙ্গবাবু। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতির বলি হচ্ছেন নিরীহ সাধারণ মানুষ। তাই প্রশাসন যেন দ্রুত হস্তক্ষেপ করে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, সেই দাবিতেই এই ডেপুটেশন প্রদান করা হয়েছে।
৭ দফা দাবির অন্যতম ছিল মাদক বিরোধী পদক্ষেপ। সংগঠনের অভিযোগ, বর্তমান সরকারের “মাদক শূন্য ত্রিপুরা” স্লোগান এখন কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, রেলপথে ওয়াগন ভরে মাদক রাজ্যে প্রবেশ করছে এবং এর সঙ্গে শাসক দলের কিছু প্রভাবশালী নেতা জড়িত। এর ফলে রাজ্যের যুবসমাজ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে এবং সমাজের অবক্ষয় ঘটছে। তাই সংগঠন দাবি জানায়, অবিলম্বে মাদক পাচারে যুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং মদের নতুন লাইসেন্স প্রদান বন্ধ করতে হবে।
অন্যদিকে, বিদ্যুৎ মাশুল বৃদ্ধি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন সংগঠনের নেতারা। তাঁদের অভিযোগ, কর্মসংস্থানহীন রাজ্যে একের পর এক মাশুল বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের উপর বাড়তি বোঝা সৃষ্টি করছে। তাই বিদ্যুৎ মাশুল বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসার দাবি জানানো হয়েছে।
গৌরাঙ্গ রুদ্র পাল জানান, এই সাত দফা দাবির মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার, মাদক ও মদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ মাশুল বৃদ্ধি বন্ধ, এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো প্রধান। তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র পশ্চিম জেলায় নয়, আগামী দিনে রাজ্যজুড়েই একই দাবিতে আন্দোলন ও ডেপুটেশন কর্মসূচি চলবে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং জনস্বার্থে পরিচালিত। রাজ্যের স্থিতিশীলতা ও সাধারণ মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে বৃহত্তর গণআন্দোলনের পথে নামবে “আমরা বাঙালি ত্রিপুরা রাজ্য কমিটি”।