ত্রিপুরা রাজ্যের কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী রতন লাল নাথ আজ জানিয়েছেন, বর্তমান রাজ্য সরকারের মূল লক্ষ্য হলো “আত্মনির্ভর ত্রিপুরা” গঠন এবং প্রতিটি ঘরে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। তিনি বলেন, “সবার জন্য সরকারি চাকরি দেওয়া সম্ভব নয়, তবে কর্মসংস্থানের পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব – এটাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দৃষ্টিভঙ্গি।”
মন্ত্রী আজ উদয়পুরে কৃষি ও উদ্যানপালন দপ্তরের জন্য নির্মিত বহুতল অফিস ভবন এবং রাজারবাগ প্রাথমিক গ্রামীণ বাজারের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। তিনি জানান, বহুতল অফিস ভবনের নির্মাণে ৮.২৭ কোটি টাকা এবং গ্রামীণ বাজার উন্নয়নে ২.২৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এই ভবনের মাধ্যমে কৃষি দপ্তরের সব শাখাকে এক ছাদের নিচে আনা হয়েছে, যাতে কৃষকরা দূরদূরান্ত থেকে এসে এক জায়গাতেই সব পরামর্শ ও সহায়তা পেতে পারেন।
রতন লাল নাথ বলেন, “আমাদের রাজ্যকে আত্মনির্ভর করতে হলে কৃষি পরিকাঠামোর উন্নয়ন অপরিহার্য। রাজ্য সরকার এই লক্ষ্য পূরণের জন্য বাজার, সেচব্যবস্থা ও কৃষিপণ্য সংরক্ষণ কেন্দ্রের আধুনিকীকরণে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালের আগে যেখানে বাজার উন্নয়নে মাত্র ২০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছিল, বর্তমান সরকার গত সাত বছরে ৩০৩ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। এর ফলে প্রায় সব প্রধান বাজারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে, যা রাজ্যের কৃষকদের বিক্রয়ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
মন্ত্রী বলেন, “আমাদের শুধু উৎপাদনের দিকে নয়, বিক্রির দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। কৃষকরা আজ দেশের অর্থনীতির মূল স্তম্ভ, তাই তাদের সম্মান ও সুযোগ দুটোই বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কৃষকরা আজ দেবতার সমান মর্যাদা পাচ্ছেন, কারণ তারাই আমাদের অন্নদাতা।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়, বিধায়ক রামপদ জমাতিয়া, জিতেন্দ্র মজুমদার, অভিষেক দেবরয়, সঞ্জয় মানিক ত্রিপুরা, পাঠান লাল জমাতিয়া এবং রণজিত দাস। বক্তৃতায় মন্ত্রী সকলকে কৃষকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “জীবন একটি খাতার মতো, যার প্রথম ও শেষ পৃষ্ঠা ঈশ্বর লিখেছেন, আর মাঝের পাতাগুলি আমাদের নিজেদের লেখার সুযোগ।”
রতন লাল নাথ আরও জানান, গোমতী জেলা রাজ্যের সেরা জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে, তবে এখানেও আরও উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে রাজ্যের প্রতিটি অঞ্চলের উন্নয়নে কাজ করছে। তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণকে বাজারগুলির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, আত্মনির্ভর ভারত ও আত্মনির্ভর ত্রিপুরা গঠনের পথে কৃষিই রাজ্যের মেরুদণ্ড। কৃষকদের সহায়তা, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বাজার ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে ত্রিপুরা শিগগিরই আত্মনির্ভর রাজ্যে পরিণত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।