আগরতলা শহরকে আগামী ২০ বছরে আধুনিক রূপ দিতে শহর প্রশাসন এবার দীর্ঘমেয়াদি মাস্টার প্ল্যানের কাজ শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার আগরতলা পুর নিগম ভবনের কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে শহর উন্নয়ন সংক্রান্ত এই পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। উপস্থিত ছিলেন মেয়র দীপক মজুমদার, ডেপুটি মেয়র, পুর নিগমের সমস্ত কর্পোরেটর, বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিক এবং পুর কমিশনার মিহির কান্তি গোপ।
বৈঠকে মেয়র জানান, আগরতলার বর্তমান জনঘনত্ব ও পরিষেবা-চাপ দিন দিন বাড়ছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পর্যটনের জন্য রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে প্রতিদিনই মানুষের আগমন বাড়ায় সড়ক, পানীয় জল, ট্রাফিকসহ মৌলিক পরিষেবাগুলো ব্যাপক চাপের মুখে পড়ছে।
এসব বিবেচনায় রেখে আগামী দুই দশকে শহরের সম্ভাব্য জনসংখ্যা ও অবকাঠামোগত চাহিদা নির্ণয় করে সমন্বিত মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে।খসড়া পরিকল্পনায় নতুন মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পাঞ্চল, গ্রিন জোন, বিনোদন পার্কসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার সম্ভাব্য অবস্থান চিহ্নিত করা হয়েছে।
যানজট কমাতে নতুন সড়ক নির্মাণ, রুট রেশনালাইজেশন এবং পরিবহন ব্যবস্থায় পরিমার্জন করার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানীয় জল, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও নগর পরিষেবা সম্প্রসারণের মতো মৌলিক সুবিধাগুলোর জন্যও রূপরেখা প্রস্তুত হচ্ছে।এ ছাড়া নাগরিক মতামত গ্রহণের জন্য শীঘ্রই নোটিফিকেশন জারি করা হবে, যেখানে এক মাসের মধ্যে দাবি-আপত্তি জানানোর সুযোগ পাবেন শহরবাসী।
বৈঠকে মেয়র আরও জানান, রাজ্য সরকারের নগর উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে আগরতলা পুর নিগমকে ৩৯ কোটি ২৫ লক্ষ টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর ৭৫% ব্যয় হবে মেটেরিয়াল কম্পোনেন্টে এবং বাকি অর্থ লেবার কম্পোনেন্টে ব্যবহৃত হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডকে বরাদ্দ করা হচ্ছে ৫০ লক্ষ টাকা, যাতে ওয়ার্ডভিত্তিক সমস্যা সমাধানে গতি আনা যায়।
সেই সঙ্গে প্রতিটি ওয়ার্ডে ১২টি বিশেষ ক্ষুদ্র উন্নয়নমূলক প্রকল্পও নেওয়া হবে।মেয়র দীপক মজুমদার আশা প্রকাশ করেন, এই অর্থ বরাদ্দ ও পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আগরতলা আগামী দিনের একটি সুপরিকল্পিত, চাপমুক্ত এবং আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে উঠবে।