রাজ্যে ডেন্টাল শিক্ষার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের সূচনা: মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা
রাজ্যের একমাত্র সরকারি ডেন্টাল কলেজ প্রতিষ্ঠা রাজ্যবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক সাফল্য। আগরতলা সরকারি ডেন্টাল কলেজ অল্প সময়ের মধ্যেই শিক্ষা ও চিকিৎসা পরিষেবার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে—এমনই অভিমত ব্যক্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা।
সোমবার মুক্তধারা অডিটোরিয়ামে আগরতলা সরকারি ডেন্টাল কলেজের তৃতীয় প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে তিনি পুরোনো আই.জি.এম. হাসপাতাল ভবনের ভূমিকম্প প্রতিরোধমূলক সংস্কার ও পুনরুদ্ধার কাজের সূচনা করেন এবং পরবর্তীতে আগরতলা সরকারি ডেন্টাল কলেজ ও আই.জি.এম. হাসপাতালের নতুন ভবন নির্মাণের ভূমিপূজন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৩ সালে এই সরকারি ডেন্টাল কলেজের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমান রাজ্য সরকারের উদ্যোগ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সহযোগিতায় কলেজটি দ্রুত অগ্রগতির পথে এগিয়ে চলেছে। এর ফলে রাজ্যের ছাত্রছাত্রীরা উন্নতমানের দন্ত চিকিৎসা শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন এবং সাধারণ মানুষ পাচ্ছেন আধুনিক চিকিৎসা পরিষেবা।
তিনি আরও বলেন, ২০১৮ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মানুষের চাহিদা, ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ এবং রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে ডেন্টাল কলেজ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে সারা দেশেই এই কলেজ একটি সমাদৃত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষে ৫০ জন ছাত্রছাত্রী নিয়ে বি.ডি.এস. কোর্স চালু হলেও বর্তমানে আসন সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩টিতে।
রাজ্যের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পুরোনো আই.জি.এম. হাসপাতালের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বজায় রেখেই সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হবে। একই সঙ্গে নতুন ভবন নির্মাণ ও সংস্কারমূলক কাজ নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শেষ করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
প্রতিষ্ঠা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই দিনটি ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাছে গর্বের হলেও প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ধরে রাখার দায়িত্ব সকলের। অধ্যবসায়, পরিশ্রম ও সেবার মানসিকতার মধ্য দিয়েই একজন চিকিৎসক সমাজের প্রতি তার দায়িত্ব পালন করতে পারেন। চিকিৎসা ক্ষেত্রে কোনও ধরনের বৈষম্যের স্থান নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে জানান, রাজ্যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। বর্তমানে প্রায় ৮২ শতাংশ মানুষ সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার উপর নির্ভর করছেন, যা রাজ্যের উন্নত স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর প্রতিফলন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডেন্টাল কলেজের অধ্যক্ষা ডা. শালু রাই। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য দপ্তরের অধিকর্তা দেবাশ্রী দেববর্মা, মেডিক্যাল এডুকেশনের অধিকর্তা এইচ.পি. শর্মা, পরিবার কল্যাণ ও রোগ প্রতিরোধ দপ্তরের অধিকর্তা ডা. অঞ্জন দাস এবং রাজ্য স্বাস্থ্য মিশনের মিশন ডাইরেক্টর সাজু বাহিদ এ। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন কলেজের একাডেমিক ইনচার্জ অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডা. পূজা দেবনাথ।
অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন বর্ষে কৃতিত্ব অর্জনকারী ছাত্রছাত্রীদের হাতে মুখ্যমন্ত্রী স্মারক উপহার ও শংসাপত্র তুলে দেন।
উল্লেখ্য, ভারত সরকারের ডোনার মন্ত্রকের অধীনে পি.এম. ডিভাইন প্রকল্পে ২০২ কোটি টাকা ব্যয়ে এই আধুনিক ডেন্টাল কলেজ গড়ে তোলা হবে। প্রকল্পের আওতায় একাডেমিক ও প্রশাসনিক ব্লকের পাশাপাশি ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বয়েজ ও গার্লস হোস্টেল নির্মাণ করা হবে। এছাড়াও কলেজে ইউজি ও পিজি ক্লিনিক, রেডিওলজি ইউনিট, ফার্মেসি, সেমিনার হল ও অডিটোরিয়ামসহ আধুনিক শিক্ষা ও চিকিৎসা পরিষেবার সমস্ত সুযোগ সুবিধা থাকবে।