রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও তপ্ত আলোচনা। প্রদেশ বিজেপি যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রাণা ঘোষ অভিযোগ করেছেন, বিরোধীরা পরিকল্পিতভাবে রাজ্য সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে। শনিবার প্রদেশ বিজেপি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, “বিরোধীরা বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। সরকারের উন্নয়নমূলক কাজকে আড়াল করার এ এক নোংরা রাজনীতি।”সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যুব মোর্চার মুখপাত্র অম্লান মুখার্জি সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। রাণা ঘোষ অভিযোগ তোলেন, সম্প্রতি এক মহিলা সামাজিক মাধ্যমে দেশের প্রধানমন্ত্রীকে অশালীন ভাষায় আক্রমণ করেছেন। অথচ ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার তাঁকে ‘ভদ্রমহিলা’ বলে সম্বোধন করেছেন। রাণা ঘোষের বক্তব্য, “একজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে এমন মন্তব্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তাঁর মতো একজন ব্যক্তিত্বের কাছ থেকে আমরা আরও দায়িত্বশীল আচরণ আশা করেছিলাম।”তিনি আরও বলেন, “আমাদের সরকার মানুষের জন্য কাজ করছে — অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষায় বিনিয়োগ, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও কর্মসংস্থানে জোর দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বিরোধীরা এ সব ইতিবাচক দিককে আড়াল করে নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছে।”অম্লান মুখার্জি একই সুরে বলেন, “রাজ্যের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলিকে বিরোধীরা ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করছে। সাধারণ মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করা হচ্ছে। যুব মোর্চার লক্ষ্য — এই মিথ্যা প্রচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং সঠিক তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরা।”তিনি আরও যোগ করেন, “যুব সমাজ আজ দেশ ও রাজ্যের অগ্রগতির প্রধান চালিকা শক্তি। আমরা চাই তরুণ প্রজন্ম প্রকৃত তথ্য জানুক, গুজবে না ভেসে সত্যকে বুঝে সিদ্ধান্ত নিক। রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে যুব সমাজের ভূমিকা অপরিহার্য।”রাণা ঘোষ এও জানান, যুব মোর্চা আগামী দিনে বিভিন্ন জেলা ও ব্লক স্তরে ‘সত্য তথ্য, সঠিক ভাবনা’ নামে প্রচার অভিযান চালাবে। এর মাধ্যমে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মসূচি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যের প্রতিবাদ জানানো হবে।তিনি শেষ করেন এই বলে, “বিরোধীরা যতই অপপ্রচার চালাক, মানুষ আজ সচেতন। রাজ্য সরকারের কাজই প্রমাণ করবে কারা সত্যিকারের উন্নয়নের রাজনীতি করছে।”সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তৃতার শেষে রাণা ঘোষ ও অম্লান মুখার্জি উভয়েই যুবকদের রাজ্য ও দেশের স্বার্থে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।