প্রয়াত ছাত্র এঞ্জেল চাকমার পরিবারের প্রতি মানবিক সহমর্মিতা জানাতে নন্দননগরের দেবরাম পাড়ায় তাঁর বাড়িতে পৌঁছালেন মুখ্যমন্ত্রী। বাড়িতে উপস্থিত শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন তিনি। পরিবারের বক্তব্য ও অভিযোগ ধৈর্যসহকারে শোনেন এবং তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, গোটা বিষয়টি ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের নজরে রয়েছে এবং প্রশাসন এঞ্জেল চাকমার মৃত্যুর ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। তিনি পরিবারকে আশ্বস্ত করে বলেন, “আপনাদের যন্ত্রণার প্রতি আমাদের পূর্ণ সহানুভূতি আছে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, আগামী ১৮ জানুয়ারি তিনি দিল্লি সফরে যাচ্ছেন। ১৯ ও ২০ জানুয়ারি দেশের সমস্ত মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেই বৈঠকের আগে ও চলাকালীন সময়ে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির সঙ্গে তিনি সরাসরি এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন। তাঁর আশ্বাস, এঞ্জেল চাকমার মৃত্যুর ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে ত্রিপুরা সরকার সক্রিয় ভাবে উদ্যোগ নেবে।উল্লেখযোগ্য যে, গত ৯ ডিসেম্বর উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে এক দুঃসাহসিক হামলায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন ঊনকোটি জেলার মাছমারা এলাকার ছাত্র এঞ্জেল চাকমা। দীর্ঘ চিকিৎসার পরও তাঁকে বাঁচানো যায়নি; ২৬ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় এঞ্জেলের ছোট ভাই মাইকেল চাকমাও মারাত্মকভাবে জখম হন এবং এখনও চিকিৎসাধীন। এই নির্মম হামলার পর থেকেই পরিবার, স্বজন এবং স্থানীয় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁরা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছেন।মুখ্যমন্ত্রীর সফরের সময় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন—তদন্তের ধীরগতি নিয়ে প্রশ্ন, নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা এবং মাইকেলের চিকিৎসা সংক্রান্ত উদ্বেগ। সমস্ত কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার পর মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের আশ্বস্ত করেন যে রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করবে।স্বজনেরা জানান, মুখ্যমন্ত্রীর এই আকস্মিক সফর এবং তাঁর আশ্বাসে তাঁরা কিছুটা মানসিক জোর পেয়েছেন। যদিও শোকের ভার তাদের ঘরকে এখনও আচ্ছন্ন করে রেখেছে, তবুও ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা আবারও দৃঢ় হয়েছে।এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পর ত্রিপুরাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থী সমাজ ও বিভিন্ন সংগঠন বারবার দাবি জানিয়ে আসছে, দ্রুত বিচার হোক এবং দোষীরা যেন আইনের কঠোর শাস্তি পায়। মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগ ঘটনাটির তদন্তে নতুন গতি আনবে বলে আশা করছেন অনেকেই।