২০২২ সালের এসটিজিটি পরীক্ষার ফলাফল এখনও প্রকাশ না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা চরম হতাশার মধ্যে রয়েছেন। দীর্ঘ চার বছর পার হওয়ার পরও ফলাফলের অপেক্ষায় দিন গুনতে থাকা পরীক্ষার্থীরা বুধবার আগরতলার শিক্ষা ভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখান।পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, তারা যথাযথভাবে পরীক্ষা দিয়ে সফল হয়েছেন, কিন্তু দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পরও কোনও ফলাফল পাননি। বারবার সংশ্লিষ্ট দফতরে যোগাযোগ করার পরও স্পষ্ট কোনো উত্তর নেই। হতাশা এবং ক্ষোভের একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায় পরীক্ষার্থীরা।বিক্ষোভের সময় শিক্ষার্থীরা TRBT চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেন, কিন্তু তিনি উপস্থিত না থাকায় কন্ট্রোলার অফ এক্সামিনেশন শশাঙ্ক ঘোষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে তারা তাদের দাবি এবং অসন্তোষের কথা তুলে ধরেন।এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা ২০২২ সাল থেকে শুধু অপেক্ষা করছি। আমাদের কোনো দোষ নেই। আমরা বিএড সম্পন্ন করেছি এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে পরীক্ষা দিয়েছি। তাহলে কেন আমাদের ফলাফল আটকে রাখা হচ্ছে?” তিনি আরও বলেন, “ফলাফল প্রকাশ না করে আবার একই পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা একেবারেই অযৌক্তিক এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে।”শিক্ষার্থীরা জানান, এসটিজিটি পরীক্ষা সহজ নয়। যদিও সিলেবাস সীমিত, তবুও এর প্রস্তুতি নিতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। দীর্ঘদিন পরও ফলাফল না জানালে আবার পরীক্ষা দেওয়ার নির্দেশ মানসিক এবং আর্থিকভাবে চাপ সৃষ্টি করছে।তারা মনে করছেন, পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা তাদের সাংবিধানিক অধিকার। এক শিক্ষার্থী বলেন, “একটি পরীক্ষার ফলাফলের জন্য চার বছর অপেক্ষা করা স্বাভাবিক নয়। এটি শুধুমাত্র আমাদের সময় নষ্ট করছে না, ভবিষ্যৎ চাকরির সুযোগও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।”পরীক্ষার্থীদের দাবি, ২০২২ সালের ফলাফল অবিলম্বে প্রকাশ করতে হবে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়াও দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। তারা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান যাতে যোগ্য শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, ফলাফলের দাবিতেই তারা আজ এখানে এসেছেন এবং প্রয়োজনে আগামী দিনেও আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তাদের বক্তব্য, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষা এবং অনিশ্চয়তা বন্ধ করা সরকারের দায়িত্ব।এই ঘটনা শুধু শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা নয়, বরং শিক্ষাজগতের প্রশাসনিক বিলম্বের একটি নজিরও হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকের মতে, পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার এবং ভবিষ্যতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, দ্রুত ফলাফল প্রকাশ এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু সম্পন্নকরণ হবে।