২০২২ সালে উত্তরাখণ্ডের হৃষীকেশে ঘটে যাওয়া অঙ্কিতা ভান্ডারী হত্যাকাণ্ডের নতুন তথ্য সামনে আসার পর দেশজুড়ে ন্যায়বিচারের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। ঘটনায় নাম এসেছে প্রভাবশালী বিজেপি নেতা বিনোদ আর্যের ছেলের—পুলকিত আর্য। এই তথ্যের প্রেক্ষিতে ত্রিপুরা প্রদেশ মহিলা কংগ্রেস মঙ্গলবার কংগ্রেস ভবনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে অভিযুক্তের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে।ত্রিপুরা প্রদেশ মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী সর্বানী ঘোষ চক্রবর্তী বিক্ষোভে বলেন, “২০২২ সালে উত্তরাখণ্ডে ১৯ বছরের অঙ্কিতা ভান্ডারী রিসেপশনিস্ট হিসেবে একটি রিসোর্টে কাজ করছিলেন। এই রিসোর্টটি ছিল প্রভাবশালী বিজেপি নেতার ছেলের মালিকানাধীন। তাকে জোরপূর্বক ভিআইপি অতিথিদের সেবা দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। অঙ্কিতা এটি করতে রাজি না হওয়ায় তার উপর জঘন্য অত্যাচার চালানো হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাকে হত্যা করা হয়।”মহিলা কংগ্রেসের দাবি, অঙ্কিতার পরিবারের পাশে থেকে তারা ন্যায়বিচারের জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করবে। সর্বানী ঘোষ চক্রবর্তী আরও বলেন, “সামাজিক মাধ্যমে উঠে এসেছে অভিযুক্ত ভিআইপির নাম, যাকে বারবার আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা চাই, তাকে অঙ্কিতা ভান্ডারীর হত্যার জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। কোনো মা বা বোন যদি ভবিষ্যতে এমন নির্মম অত্যাচারের শিকার হয়, আমরা তার জন্যও আন্দোলন চালাবো।”বিক্ষোভে প্রদেশ মহিলা কংগ্রেসের অন্যান্য নেত্রীরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব থাকলেও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। দেশের সমস্ত মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য।উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ওই ঘটনায় অঙ্কিতা তার পরিবারকে আর্থিকভাবে সাহায্য করার জন্য রিসেপশনিস্টের কাজ করছিলেন। কিন্তু দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তার উপর অতিরিক্ত চাপ ও জোরপূর্বক সেবা দেওয়ার জন্য চাপ তৈরি করা হয়। এই ঘটনাটি তখনও আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়নি, কিন্তু সম্প্রতি তদন্তে অভিযুক্তের নাম উঠে আসার পর বিষয়টি নতুন করে সবার নজরে এসেছে।ত্রিপুরা প্রদেশ মহিলা কংগ্রেসের এই বিক্ষোভ দেশের অন্যান্য প্রান্তেও সমর্থনের এক বার্তা দিয়েছে। তারা বলেছে, রাজনৈতিক প্রভাব থাকলেও বিচারকে রাজনৈতিক চাপের বাইরে রাখতে হবে। এছাড়া, সমাজে মহিলাদের প্রতি সুরক্ষা ও ন্যায়ের নিশ্চয়তা দেওয়ার জন্য সরকারের পদক্ষেপ প্রয়োজন।নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার এবং নারী অধিকারকে সামনে রেখে কংগ্রেস এই আন্দোলন চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, অঙ্কিতা ভান্ডারীর পরিবারের পাশে থেকে অভিযুক্তদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মহিলা সংগঠনও এই ঘটনায় তাদের সমর্থন জানিয়েছে, যা দেশের ন্যায়বিচারের মান এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।