জোলাইবাড়ির যোগদান সভায় মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার তোপ বিরোধীদের বিরুদ্ধেদক্ষিণ জেলার জোলাইবাড়িতে ভারতীয় জনতা পার্টির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত যোগদান সভায় মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা আজ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন। সভায় তিনি জানান, রাজ্যের জনজাতি সমাজের সার্বিক উন্নয়নই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য। গায়ের জোর নয়, বরং কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতেই সরকার বদ্ধপরিকর—এমন মন্তব্য করে মুখ্যমন্ত্রী অতীতের শাসনব্যবস্থাকে একহাত নেন।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জোরজবরদস্তি করে মানুষের মন জয় করা যায় না। উন্নয়নমূলক কাজই আমাদের সরকারের শক্তি। জনজাতি উন্নয়নে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যেভাবে এগিয়ে এসেছে, সেই তুলনা অন্য কোনও সময়ে নেই।” তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে জনজাতি সমাজের উন্নয়ন এখন দেশের অগ্রাধিকার তালিকায় শীর্ষে।রিয়াং শরণার্থী সমস্যার মতো জটিল বিষয়ে সরকারের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২৩ বছর ধরে অবহেলিত থাকা এই মানুষদের জন্য কোনও সরকার বাস্তব পদক্ষেপ নেয়নি। কিন্তু বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে তাদের পুনর্বাসনের স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হয়। তিনি জানান, রাজ্যের দায়িত্ব গ্রহণের পরে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া দ্রুততর করার উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং রাজ্যের ১২টি স্থানে রিয়াং জনগোষ্ঠীর থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। এমনকি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজে রাজ্যে এসে পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।মুখ্যমন্ত্রী সভায় বলেন, “এখন গণতন্ত্রের যুগ। রাজা-রাজরাদের যুগ শেষ হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, মন্ত্রিসভা কেমন হবে—সবই নির্ধারণ করে জনগণ। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাতেই আমরা প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন করি।” তিনি আরও বলেন, মহারাজাদের ঐতিহাসিক অবদানের প্রতি ভারতীয় জনতা পার্টি গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছে। কিন্তু অতীতে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্টরা তাদের মর্যাদা রক্ষায় কোনও উদ্যোগ নেয়নি।এ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, “আমরা তাদের সম্মান দিয়েছি। কিন্তু কেউ যদি সেই সম্মান ধরে রাখতে না পারেন, তাহলে আমাদের কিছু করার নেই।”সভায় মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে বিজেপি নেতাদের মিটিংয়ে আসা আটকানোর চেষ্টাও চলছে। তিনি বলেন, “আমরা কংগ্রেস, সিপিএম বা জোট সরকারের আমলে গায়ের জোরের রাজনীতি দেখেছি। এখন মানুষ সব বুঝে গেছে। ভয় দেখিয়ে রাজনীতি করার যুগ শেষ।”এডিসি নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২১ সালের নির্বাচনে বিজেপি মাত্র ১১টি আসনে প্রার্থী দিলেও তার ৯টিতেই জয়ী হয়। পরে একজন নির্দল প্রার্থী যোগ দেওয়ায় সেই সংখ্যা দাঁড়ায় ১০-এ। তিনি দাবি করেন, কেউ কেউ বলতেন জনজাতি অঞ্চলে বিজেপির সংগঠন দুর্বল, কিন্তু আজকের সভার বিপুল ভিড়ই প্রমাণ করছে যে বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁর মন্তব্য, “আজকের এই উপস্থিতি দেখে খুমুলুঙে কম্পন শুরু হয়ে গেছে। পরের নির্বাচনে এডিসির ২৮টি আসনে কী হতে যাচ্ছে, মানুষ ইতিমধ্যেই আন্দাজ করে ফেলেছেন।”মুখ্যমন্ত্রী আবারও জোর দিয়ে বলেন, “গায়ের জোর দিয়ে মানুষের মন পাওয়া যায় না। কাজের মাধ্যমেই আস্থা অর্জন করতে হয়।” তিনি জানান, জনজাতি উন্নয়নে সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা বাস্তবায়নের জন্য নিরলসভাবে কাজ চলছে।জনজাতি সমাজের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির বিষয়েও মুখ্যমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে জনজাতি অংশের ৭ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করেছে কেন্দ্র সরকার। এ বছরও সাহিত্য ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য রাজ্যের জনজাতি লেখক নরেশ চন্দ্র দেববর্মাকে পদ্মশ্রী পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এটাই প্রমাণ করে আমরা শুধু কথা বলি না, কাজ করি। জনজাতি সমাজের উন্নয়নে আমরা একের পর এক পদক্ষেপ নিয়ে চলেছি।”সভায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির প্রদেশ সাধারণ সম্পাদক বিপিন দেববর্মা, বিধায়ক প্রমোদ রিয়াং, বিধায়ক স্বপ্না মজুমদার, জেলা সভাপতি দীপায়ন চৌধুরী, এডিসি সদস্য সঞ্জিত রিয়াং, জোলাইবাড়ি মণ্ডলের সভাপতি সুজিত দত্ত, বিএসি চেয়ারম্যান অশোক মগ সহ বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্ব।জোলাইবাড়ির এই যোগদান সভা সরকারের উন্নয়নমুখী অবস্থান এবং জনজাতি সমাজে বাড়তে থাকা রাজনৈতিক সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই ব্যাখ্যা করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। মুখ্যমন্ত্রীও তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে দেন, উন্নয়নই সরকারের একমাত্র এজেন্ডা এবং সেই কাজই আগামী দিনে আরও দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।