ত্রিপুরার স্বশাসিত জেলা পরিষদ (টিটিএএডিসি) নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ ক্রমশই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রচার, কৌশল নির্ধারণ এবং প্রার্থী বাছাই ঘিরে জোর তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই আবহেই মঙ্গলবার খোয়াই মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে নিজের মনোনয়ন পত্র দাখিল করলেন বিজেপির রাজ্য সম্পাদক ডেভিড দেববর্মা। মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর তিনি আসন্ন নির্বাচনে বিজেপির জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।মনোনয়ন দাখিলের সময় দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। সমর্থকদের স্লোগান ও উপস্থিতি বিজেপির সংগঠন শক্তিরই প্রতিফলন বলে দাবি করেন দলীয় নেতৃত্ব। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডেভিড দেববর্মা বলেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য-এর নেতৃত্বে দল এই নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় ছিনিয়ে আনবে।তিনি বলেন, “ত্রিপুরার মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। বিশেষ করে জনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষ উন্নয়ন, স্বচ্ছতা এবং স্থিতিশীল প্রশাসনের পক্ষে নিজেদের মত প্রকাশ করছেন।” তাঁর দাবি, গত কয়েক বছরে বিজেপি সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ মানুষের আস্থা অর্জন করেছে এবং সেই আস্থার প্রতিফলন ভোট বাক্সে দেখা যাবে।ডেভিড দেববর্মা আরও জানান, বিজেপি ক্ষমতায় এলে টিটিএএডিসিতে একটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলা হবে। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী প্রশাসনের সময় দুর্নীতি ও অস্বচ্ছতার কারণে সাধারণ মানুষ নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটানোই হবে বিজেপির মূল লক্ষ্য।তিনি বলেন, “আমাদের জনসভাগুলিতে মানুষের যে বিপুল উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে, তা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে সাধারণ মানুষের সমর্থন বিজেপির দিকেই রয়েছে। মানুষ উন্নয়ন চায়, কাজ চায়—আর সেই কাজ করতে সক্ষম একমাত্র বিজেপিই।”এছাড়াও ‘নতুন ত্রিপুরা’ ও ‘বিকশিত ত্রিপুরা’ গড়ার লক্ষ্যে দলের প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জনজাতি জনগোষ্ঠীর সার্বিক উন্নয়নই হবে দলের অগ্রাধিকার। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি—এই চারটি ক্ষেত্রকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের টিটিএএডিসি নির্বাচন রাজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই নির্বাচনের ফলাফল ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণ নির্ধারণে বড় ভূমিকা নিতে পারে। ফলে প্রতিটি দলই নিজেদের শক্তি প্রদর্শনে কোনওরকম খামতি রাখতে চাইছে না।সব মিলিয়ে, মনোনয়ন দাখিলের মাধ্যমে নির্বাচনী লড়াইয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করলেন ডেভিড দেববর্মা। এখন দেখার বিষয়, ভোটের ময়দানে বিজেপি তাদের দাবিকৃত সমর্থন কতটা বাস্তবে রূপ দিতে পারে এবং জনজাতি অধ্যুষিত এই গুরুত্বপূর্ণ পরিষদে শেষ পর্যন্ত কারা ক্ষমতার দখল নেয়।