পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের এক মাস পূর্ণ হওয়ার মধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে এক বিস্ফোরক দাবি। প্রাক্তন রাষ্ট্রসঙ্ঘ কূটনীতিক মহম্মদ সাফা অভিযোগ করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পরমাণু হামলার প্রস্তুতি চলছে—যা ঘিরে বিশ্ব রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে।সাফার দাবি অনুযায়ী, মার্কিন প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই তেহরানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিয়ে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ওয়াশিংটন। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর হুঁশিয়ারি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তিনি আগেই সতর্ক করেছিলেন, সমঝোতা না হলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ কেন্দ্র, তেলক্ষেত্র এবং খার্গ দ্বীপে হামলা চালানো হতে পারে।এই প্রেক্ষাপটেই সামনে এসেছে আরও গুরুতর অভিযোগ। সাফা জানান, রাষ্ট্রসঙ্ঘের অন্দরে কিছু প্রভাবশালী মহল সম্ভাব্য পারমাণবিক হামলার পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলার পরিকল্পনাও করছে। এই দাবির পরেই তিনি নিজের কূটনৈতিক পদ থেকে ইস্তফা দেন।উল্লেখযোগ্যভাবে, মহম্মদ সাফা আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘প্যাট্রিয়টিক ভিশন’-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং United Nations-এর অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের বিশেষ পরামর্শদাতা হিসেবেও কাজ করেছেন। ২০১৬ সাল থেকে তিনি রাষ্ট্রসঙ্ঘে ওই সংস্থার স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।নিজের পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সামাজিক মাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্টে সাফা বলেন, তিনি এই সম্ভাব্য “অপরাধের অংশ” হতে চান না। তাঁর পোস্টে Tehran-এর একটি ছবি শেয়ার করে তিনি উল্লেখ করেন, “এটি কোনো জনশূন্য মরুভূমি নয়—এখানে কোটি মানুষের জীবন, পরিবার ও স্বপ্ন জড়িয়ে আছে।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি Washington D.C., Berlin, Paris বা London-এর মতো শহরে এমন হামলা হয়, তাহলে তার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে।সাফা আরও দাবি করেছেন, ২০২৩ সালে Hamas attack on Israel October 2023-এর পর ভিন্ন মত প্রকাশ করায় তিনি নানা চাপ ও সমালোচনার মুখে পড়েন। এমনকি তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। দীর্ঘদিনের এই চাপের পর অবশেষে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।তবে এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত রাষ্ট্রসঙ্ঘের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে সাফার দাবি কতটা সত্য, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে।উপসংহার:ইরানকে কেন্দ্র করে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও পরমাণু হামলার সম্ভাবনার মতো গুরুতর অভিযোগ বিশ্বশান্তির জন্য বড়সড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন নজর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া ও পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ গতিপথের দিকে।