মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করছে। ইরানকে লক্ষ্য করে সামরিক হামলা আরও বাড়ানোর হুঁশিয়ারি দিল আমেরিকা। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব Pete Hegseth জানিয়েছেন, গত ১১ দিন ধরে চলা সংঘাত মঙ্গলবার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর পর্যায়ে পৌঁছতে পারে। ইতিমধ্যেই আকাশপথে হামলা বাড়ানোর প্রস্তুতি নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী।মঙ্গলবার পেন্টাগনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন বিমান হামলা আরও তীব্র করা হবে। ফাইটার জেট ব্যবহার করে একাধিক সামরিক ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার পরিকল্পনা রয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ইরানের সামরিক শক্তিকে দুর্বল করতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে।অন্যদিকে, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই অভিযানের লক্ষ্য কেবল সামরিক সাফল্য নয়, বরং ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে ভেঙে দেওয়া। তাঁর কথায়, “আমরা ইরানের শিরদাঁড়া ভেঙে দিয়েছি। ইরানের জনগণকে স্বৈরশাসনের হাত থেকে মুক্ত করতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে।”প্রায় ১১ দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে বড় আকারের সামরিক হামলা শুরু করে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সেই হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei। তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে ওঠে। পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে ইরানও।খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর ইরানের ক্ষমতার শীর্ষে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়। ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন খামেনেইয়ের দ্বিতীয় পুত্র Mojtaba Khamenei। নতুন নেতৃত্বের ঘোষণার পরেই যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়ে ওঠে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump এই পরিস্থিতিতে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরানের নতুন নেতৃত্ব বেশিদিন টিকতে পারবে না। ট্রাম্পের এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট যে, ইরানকে ঘিরে সংঘাত এখনই থামার সম্ভাবনা খুবই কম।এই সংঘাতের প্রভাব পড়েছে গোটা মধ্যপ্রাচ্য জুড়েই। ইরান ইতিমধ্যে আরব দেশগুলিতে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। এর ফলে অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।এদিকে যুদ্ধের কারণে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ Strait of Hormuz বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারেও বড় প্রভাব পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অপরিশোধিত তেল ও এলপিজি রফতানি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে এবং বিভিন্ন দেশে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের মিসাইল হামলার সংখ্যা কিছুটা কমেছে। তবে পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত সংবেদনশীল। মার্কিন বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে আরও বড় আকারে অভিযান চালানো হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।অন্যদিকে, জেরুজালেমে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইরানের সামরিক ক্ষমতার বড় অংশ ইতিমধ্যেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযান এখনও শেষ হয়নি বলেও তিনি জানান।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাত যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে তার প্রভাব কেবল মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহল যুদ্ধ থামানোর আহ্বান জানালেও এখনও পর্যন্ত সংঘাত থামানোর কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। বরং মঙ্গলবার আরও বড় আকারের হামলার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।ফলে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের কালো মেঘ আরও ঘন হচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।