গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিচারব্যবস্থা ও সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম — এই মন্তব্য করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা বলেন, “সংবাদমাধ্যম গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সমাজে ন্যায় ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।”
আজ সকালে আগরতলা প্রেস ক্লাবে তিনদিনব্যাপী মিডিয়া ওয়ার্কশপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ভারতীয় সংবিধানের ১৯(১) অনুচ্ছেদে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হলে গণতন্ত্র ও সমাজব্যবস্থা উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে তিনি সতর্ক করেন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংবাদমাধ্যম ওয়াচডগের ভূমিকা পালন করে। সরকার তার দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত হলে সংবাদমাধ্যমই তা সাহসের সঙ্গে জনসমক্ষে তুলে ধরে।”
তিনি জানান, রাজ্য সরকার সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় গভীরভাবে বিশ্বাসী এবং প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। প্রতি পক্ষকালে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী অতীতে রাজ্যের দুই সাংবাদিক হত্যার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, “দোষীদের আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে—এই বিষয়ে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।”
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত সচিব অপূর্ব রায় বলেন, “গণতন্ত্রে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সাংবাদিকদের কল্যাণ ও পেশাগত উন্নয়নে রাজ্য সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে।”
আগরতলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি প্রণব সরকার বলেন, নিয়মিতভাবে এই ধরনের ওয়ার্কশপের আয়োজন প্রশংসনীয়। তবে সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার রোধে প্রশাসনের সতর্ক ভূমিকা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের অধিকর্তা বিম্বিসার ভট্টাচার্য জানান, তিনদিনব্যাপী এই কর্মশালায় দেশবরেণ্য সাতজন রিসোর্স পার্সন অংশ নিচ্ছেন। প্রায় ৩৫০ জন সাংবাদিক ও আলোকচিত্রী ওয়ার্কশপে যোগ দিয়েছেন।